image
রংপুর : বাগানে ঝুলছে সারি সারি কলা -সংবাদ

রংপুরে লাভজনক কলা চাষে ঝুঁকছে কৃষক

প্রতিনিধি, রংপুর

২০১৯ সালে কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর থেকে স্থিতিশীল এবং দামে লাভজনক হওয়ায় রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকরা কলা চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হচ্ছেন।

গত ছয় বছরে কলার দাম একবার ও না কমায় শতশত কৃষক কলা চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন এবং বিপুল মুনাফা লাভ করেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তা থেকে শুরু কওে বিশেষজ্ঞ ও কৃষকরা পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে মূল ভূখ- ও নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে কলা চাষকে অত্যন্তলা ভজনক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

জানা যায়, গত ছয় বছরে বাম্পার ফলন ও লাভজনক মূল্য পাওয়ার ধারাবাহিকতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় প্রতি বছরই কলা চাষ বাড়ছে।

রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি ২০২৫-২০২৬ রবি মৌসুমে গত সপ্তাহ পর্যন্ত এ অঞ্চলে ২ হাজার ৬২১ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কলার চারা রোপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে ২ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছিল।

ডিএই পরিচালিত ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা নিজেদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাবৃদ্ধির পাশাপাশি অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থকরী ফসল হিসেবে কলা চাষ সম্প্রসারণ করছেন।

ডিএই কর্মকর্তারা মূলভূখ- ও চরাঞ্চলে ‘মেহেরসাগর’, ‘মালভোগ’, ‘সবরি’ সহবিভিন্ন জাতের কলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

এদিকে, আগাম জাতের কলা সংগ্রহ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাম্পার ফলন ও লাভজনক বাজার দর পাওয়ায় কৃষকরা বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুর রহমান, মখলেসুর রহমান ও বাদল হোসেন জানান, তারা গত ১৫ বছর ধরে কলা চাষ করে আসছেন এবং প্রতি বছরই ভালো লাভ করছেন।

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান, আবদুল হাই ও নুরু ন্নবী এবং বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তারা এ মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় বেশি জমিতে কলা চাষ করেছেন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন চর ও গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী, বাবুল আখতার, নুরুল ইসলাম ও মাহবুবুর বলেন, চরাঞ্চলে বসবাসকারীরা গত ১০ বছর ধরে সফল ভাবে কলাচাষ করে আসছেন এবং ভালো লাভ করছেন।

ইউসুফ আলী বলেন, চরের একপাশের কলা বিক্রি করছি, অন্য পাশে খালি জমিতে নতুন করে চাষ করছি। সারা বছরই নতুন মোচাধরার প্রক্রিয়া চলতে থাকে, ফলে বাগান সব সময়ই সতেজ থাকে।

বাবুল আখতার বলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার অন্যান্য উপজেলার মতো প্রতি বছরই আরও বেশি চরভূমি কলাচাষের আওতায় আসছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে সারা বছর কলা চাষ করছি। কলাচাষ আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড়ধরনের ভূমিকা রাখছে।

রংপুর সিটি বাজারের খুচরা ফল ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান ও রংপুরের পীরগাছা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, বর্তমানে ‘মালভোগ’ ও ‘সবরি’ কলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৫০ টাকায়বিক্রি হচ্ছে।

ডিএই-এর রংপুরের বুড়িরহাট উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. আবু সায়েম বলেন, সমতল ভূমি ও চরাঞ্চলে কলা চাষসম্প্রসারণের ফলে কৃষকদের জীবন মান উন্নত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» বাগেরহাটে নির্বাচনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা শহরতলী থেকে ককটেল উদ্ধার

সম্প্রতি