image
তালতলী (বরগুনা): কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের বেহালা গ্রামে কাঠ ও বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো -সংবাদ

তালতলীতে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুই মানুষের ভরসা

প্রতিনিধি, তালতলী (বরগুনা)

বরগুনার তালতলী উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের বেহালা গ্রামে চার বছর আগে ধসে পড়া একমাত্র সেতুটি আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি। ফলে কাঠ ও বাঁশের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো বা সেতু দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বেহালা খালের ওপর নির্মিত সেতুটি প্রায় ২৫ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় লোনা পানির প্রভাবে সেতুর লোহার অ্যাঙ্গেলগুলো ক্ষয় হয়ে গত ২০২২ সালের মার্চ মাসে সেতুটির পুরো কাঠামো ধসে খালে পড়ে যায়। দীর্ঘ চার বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সেতু নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের বেহালা গ্রামটি তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। চারপাশ খালবেষ্টিত হওয়ায় গ্রামটি কার্যত একটি দ্বীপের মতো। দক্ষিণ অংশে মানুষের বসতি, এরপর সরু পিচঢালা রাস্তা পেরিয়ে বিস্তীর্ণ ফসলের খেত ও গোলগাছের বাগান। গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যাই বেশি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশপাশে কোনো বড় বাজার না থাকায় বাজার-সদাই কিংবা জরুরি প্রয়োজনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের তালতলী উপজেলা সদরে যেতে হয়। একমাত্র যাতায়াতের রাস্তাটি কাঁচা থেকে পাকা হলেও খালের ওপর সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো সুফল পাচ্ছেন না তারা। বেহালা গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের একটাই দুঃখ- একটি সেতুর অভাব।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলী-তালতলীর মূল সড়কে উঠতে হলে বেহালা খাল পার হতে হয়। বর্তমানে খালটিতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। আগে এখানে লোহার কাঠামোর ওপর সিসি ঢালাই দেয়া একটি স্ল্যাব সেতু ছিল। সেটি ভেঙে পড়ার পর প্রথমদিকে খেয়া নৌকায় পারাপার চললেও পরে এলজিইডি এডিবির অর্থায়নে বাঁশ ও কাঠের কাঠামোর ওপর কাঠের তক্তা বসিয়ে একটি অস্থায়ী কাঠের সাঁকো বা সেতু নির্মাণ করে দেয়। বর্তমানে সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু দিয়েই সব ধরনের যাতায়াত চলছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ তালতলী, আমতলীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতেন। একই পথে বেহালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী চলাচল করত। সেতু ভেঙে পড়ার পর থেকে তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগী হলে অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে ঢুকতে পারে না। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল পরিবহনেও মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শিশির বলেন, এই কাঠের সেতু দিয়ে আমাদের প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও কৃষকদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

বেহালা গ্রামের বাসিন্দা খোকন হাওলাদার বলেন, কাঠের সেতুটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে একটু অসাবধান হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্ষাকালে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে পারাপার করা ভয়ংকর হয়ে ওঠে। আমরা আর আশ্বাস নয়, স্থায়ী সেতু চাই। এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন,বেহালা খালের সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

সম্প্রতি