‘বাঙালিয়ানায় সাজাবো সাজ, পিঠা উৎসবে মজবো আজ’- স্লোগানে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বর্ণাঢ্য পিঠা উৎসব ১৪৩২। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বাংলা বিভাগের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে কলেজের বাংলা বিভাগের নিজস্ব কক্ষে দিনব্যাপী জমকালো এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাহারি পিঠার ঘ্রাণ আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় পুরো ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই আয়োজনটি এখন কেবল একটি বিভাগীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং পুরো শহর ও জেলার অন্যতম সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশীদ।
উদ্বোধনের পর অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সাজানো প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সাজানো চারটি স্টলে দেখা মেলে শত পদের পিঠার সমাহার। জামাই পিঠা, কুলি, রসুন পিঠা, চকলেট পাটিসাপটা, পাতা বাহারি, পায়েস, মুজিব বরফি, গাজরের হালুয়া থেকে শুরু করে কলাই রুটি ও ঝাল বাটার মতো হরেক রকম ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে স্টলগুলোতে ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়।
উৎসবে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাঈফের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশীদ বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে আমরা এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছি। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ খুলনা বিভাগ তথা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানের অবস্থান অনন্য। ঐতিহ্যের ধারক হিসেবে আমরা বাঙালির অনুভূতিগুলোকে লালন করি এবং উৎসবের মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ করি।’
তিনি বাংলা বিভাগের শিক্ষকদের আন্তরিকতার প্রশংসা করে আরও যোগ করেন, বাংলা বিভাগের পিঠা উৎসব এখন কেবল এই বিভাগেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি পুরো কলেজ এবং শহরের এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ উৎসবটি লোকজ সংগীত ও আড্ডায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে- যা যান্ত্রিক কোলাহল জীবনে ক্ষণিকের জন্য প্রশান্তি বয়ে আনে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাঈফ বলেন, ‘আমাদের বাংলা বিভাগ একটি ঐতিহ্যবাহী বিভাগ। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্টলের নামকরণের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছে। তারা এমন সব পিঠা উপহার দিয়েছে- যা আমাদের অতীতকে মনে করিয়ে দেয় এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে আমাদের সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ফারজানা কেতকী এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর সফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া উৎসবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল হাসান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সেলিনুর আক্তার, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুর রহমান, প্রভাষক আজিম হোসেন, মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষার্থীরা।