image

ভোটের মাঠে নারী জাগরণ, প্রাণবন্ত রাজশাহীর কেন্দ্রগুলো

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

সকালের নরম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই রাজশাহীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে শুরু হয় এক অন্যরকম দৃশ্য। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা নারীদের উপস্থিতি যেন জানান দিল, গণতন্ত্রের উৎসবে তারা আর নীরব দর্শক নন বরং সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। পুরুষদের তুলনায় অনেক কেন্দ্রে নারীর উপস্থিতিই ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণী থেকে প্রবীণ সব বয়সী নারীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভোটের পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। এই উপস্থিতি শুধু সংখ্যায় নয়, বার্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ নিজস্ব মত প্রকাশে, অধিকার প্রয়োগে এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নারীরা আজ দৃঢ় ও সচেতন।

রাজশাহীর ৬টি আসনে দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। এবার ফলাফলের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ চলে। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রে বাড়তে থাকে ভোটারের উপস্থিতি। দুপুরের পর থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এবারের নির্বাচনে রাজশাহীর প্রায় সবগুলো কেন্দ্রতে তরুণ ও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পুরুষদের তুলনায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবা বেগমকে ভোটকেন্দ্রের সামনে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। ভোটগ্রহণ চলাকালে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে পবার নলখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হাবিবা বেগম ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। তিনি মোহনপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। হাবিবা উপজেলা কৃষক লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

তাকে মারধরের একটি ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। দাঁড়িয়ে কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি হাবিবাকে সজোরে একটি থাপ্পড় মারেন। এরপর হাবিবা লুটিয়ে পড়েন। কোনোমতে সামলে উঠে দাঁড়ালেই আবার তাকে থাপ্পড় মারা হয়। এরপর হাবিবার সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে রক্ষা করেন। আরেক ব্যক্তি মারধর করা ব্যক্তিকে নিয়ে দূরে সরে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যিনি মারধর করছিলেন তার নাম রজব আলী। তিনি পবার হরিয়ান ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।

ঘটনার পর দুই বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের সামনে একটি চেয়ারে বসে থাকেন হাবিবা। তখন তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের সামনে এসে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন এবং ভোট চাইছিলেন এই বলে যে, আগে তিনি প্রচারণায় আসতে পারেননি, তারপরও ভোটাররা যেন তাকে ফুটবল প্রতীকে ভোট দেন।

হাবিবা জানান, তার এই প্রচারণায় বাধা দিয়েছিলেন বিএনপি নেতা রজব আলী। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়।

হাবিবা বেগমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আকবর হোসেন বলেন, ‘একজন নারী প্রার্থীর গায়ে এভাবে হাত তোলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু ‘ভোটকেন্দ্রের বাইরের ঘটনা বলে তিনি দায় এড়িয়ে গিয়েছেন। আমরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও জানাবো। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে হাবিবাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাবিবা জানান, মারধরের কারণে তিনি কানে শুনতে পাচ্ছেন না। কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ঘটনাস্থলে বিএনপি নেতা রজব আলীকে পাওয়া যায়নি। ভোটকেন্দ্রের সামনে ছিলেন হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, রজব আলী তাদের দলের নেতা। কিন্তু এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না।

রাজশাহীর কাটাখালী থানার ওসি সুমন কাদেরী বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের সামনে ভোটারদের কাছে ভোট চাওয়া নিয়ে একজন প্রার্থীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি।

অন্যদিকে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারীদের সরব অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নেন, যা নির্বাচনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

বৃহস্পতিবার পবা উপজেলার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেন। এ কেন্দ্রের মোট নারী ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৮০৬ জন। উপস্থিত ভোটারদের একটি বড় অংশ ছিলেন হিন্দু নারী। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও কাটাখালী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মহরম আলী খান জানান, সকাল থেকেই নারী ভোটারদের উপস্থিতি সন্তোষজনক এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নওহাটা হলদার পাড়া এলাকার ৭৮ বছর বয়সী শ্রীমতি রেনুবালা ভোট প্রদান শেষে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। বয়স হলেও ভোট দেয়া আমার দায়িত্ব মনে করি।’ অন্যদিকে নওহাটা আলুহাটা এলাকার শ্রীমতি রুপালী রানী দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এবার ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে। নিজের মতামত দেয়ার সুযোগ পেয়েছি।’

এদিকে জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার বেশি। পবা উপজেলার নওহাটা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশ নেন।

এদিন দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নারীদের লম্বা লাইন। জুলেখা বেগম নামে এক নারী জানান, আমাদের গ্রামের সবাই ভোট দিতে এসেছে। যোগ্য যে প্রার্থী আমরা তাকে ভোট দেব।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» কুমিল্লার তিন কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত

» সিসি ক্যামেরা আতঙ্ক, প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে বাগেরহাটে নির্বাচন শুরু

» নাটোরে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটগ্রহণ শুরু

» শেরপুরে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট ছিনতাই

সম্প্রতি