পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসার দিবস আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের সব প্রস্তুতি নিয়েছে। অনেক ফুল ব্যবসায়ীরা ফুল চাষিদের অগ্রীম টাকা প্রদান করেছেন। সিরাজগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ হয়। এসব জমিতে গাঁদা, গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, সিলভিয়া, ডালিয়া, জবা, চন্দ্রমল্লিকা, দোপাটি, সূর্যমুখী ইত্যাদি ফুলের চাষ করা হয়। জেলায় বাণিজ্যিক ভাবে ৫০ জন ফুলচাষি ছাড়াও অন্তত ৫০০ জন চাষি ফুল চাষে জড়িত। সারা বছর জেলায় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হলেও দুই উৎসব ও আন্তর্জাতিক শহিদ ও মাতৃভাষা দিবসে অর্ধকোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
সদর উপজেলার একডালা গ্রামের ফুলচাষি শহিদুল ইসলাম জানান, আমি ১০ বিঘা জমিতে গোলাপ ফুলের চাষাবাদ করেছি। কয়েকদিন আগে রোজ ডে, প্রপোজ ডেতে প্রচুর গোলাপ বিক্রি করেছি। পহেলা ফাল্গুন, ভালবাসার দিবস আর আন্তর্জাতিক শহিদ ও মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আরও কয়েক হাজার গোলাপ ক্যাপ পরিয়ে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমি এ বছর ১৬ লাখ টাকার ফুল বিক্রী করেছি। এর মধ্যে ৬ লাখ টাকা খরচ বাদে ১০ লাখ টাকা লাভ হয়েছে। তিনি বলেন এই তিন দিবস উপলক্ষে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।
ফুল বিক্রেতা রতন কুমার জানান, এ বছর ফুলের ব্যবসায় কিছুটা মন্দা হলেও এই তিন দিবসে ফুলের ব্যবসা ভালো হবে বলে আশা করছি।
সিরাজগঞ্জ বিএ কলেজ রোর্ডের রাজা ফুল ঘর, চমক ফুল ঘর, তপু ফুল ব্যাবসায়ী রতন কুমার জানান, ফুলের ব্যবসা অন্যান্য বাড়ের চেয়ে এবারে অনেকটাই মন্দা। তিনি আরও জানান, প্রতিটি রজনীগন্ধা স্টিক ১০ টাকা, গাদা ফুলের মালা (৫ ফিট) ৫০ টাকা, গোলাপ ফুল প্রতি পিস ১০ টাকা, তোরা ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসিম হোসেন জানান, ফুল চাষিদের সঠিক ভাবে ফুল চাষের পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি নানা ভাবে সহায়তা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ফুল চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের সিনিয়র উদ্যানতত্ববিদ শহিদুল ইসলাম জানান, পহেলা ফাল্গুন, ভালোবাসার দিবস আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে ফুল চাষিদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। পুরো বছরব্যাপী জেলায় কোটি টাকার ফুল বিক্রি হলেও দুই উৎসব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অর্ধ কোটি টাকার ফুল বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।