ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশে চাঁপাইনবাবগঞ্জের (গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট) সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।
এ আসনের মোট ১৮৪টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের ফলাফল। জামায়াত প্রার্থী মিজানুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ২২৭ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ভোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ১১৯। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রার্থীর চেয়ে ১৬ হাজার ১০৮ ভোট বেশি পেয়েছেন জামায়াত প্রার্থী।
নাচোলে মোট ভোটার ৮৬৪৬৭ জন। হ্যাঁ ভোট ৪০ হাজার ২৭৫টি, না ভোট ১৮ হাজার ২১৮টি। ভোটের ৭৬%। ভোলাহাটে মোট ভোটার ৬৮ হাজার ৬৫৬ জন। দাঁড়িপাল্লা ৩৫ হাজার ২৯টি ভোট। ধানের শীষ ৩২ হাজার ৬৫১টি।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো তবে গড়ে ৭০% ভোটার উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে বলে জানানো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (ভোলাহাট, গোমস্তাপুর ও নাচোল) আসনে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৮২৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩২ হাজার ১৭৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৮৪টি। (গোমস্তাপুর ৯০টি, ভোলাহাট ৫৫টি ও নাচোলে ৩৯টি)। গোমস্তাপুর উপজেলার ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৬ জন, নাচোল উপজেলার ভোটার ৮ লাখ ৬ হাজার ৪৬৭ জন ও ভোলাহাট উপজেলার ভোটার ৬ লাখ ৮ হাজার ৬৫৬ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠেছে। দীর্ঘদিনের আধিপত্য হারিয়ে এই জেলায় বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে বিএনপি। অন্যদিকে তিনটি আসনেই জয়লাভ করে চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।
একসময়ের বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই জেলায় জামায়াতের এই নিরঙ্কুশ জয়কে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্থানীয় ভোটার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের সুশৃঙ্খল সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং প্রচার কৌশল কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে স্থানীয় কর্মীদের অসন্তোষ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল পরাজয়ের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের প্রতি আগ্রহ এবং জামায়াতের ‘ক্লিন ইমেজ’ কৌশলে দারুণ কাজ করেছে এই কারণেই বিএনপির এই পরাজয় এবং জামায়াতের উত্থান ঘটেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে জড়ো হতে থাকেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা ও শহর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি পরাজিত হওয়ার মূল কারণ এমপি পদপ্রার্থী বেশি হওয়া এবং গ্রুপিং-লবিং বেশি।
সাধারণ ভোটারদের মতে, এবারের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে আনন্দ মিছিল করতে দেখে অনেক সাধারণ মানুষও এই উচ্ছ্বাসে যোগ দিতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩টি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ-বাণিজ্য: ওয়ালটন ই-বাইকে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়
অর্থ-বাণিজ্য: দেশের ভেতরে নগদ অর্থ বহনে কোনো সীমা নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
অর্থ-বাণিজ্য: বিকাশ, নগদ, রকেটে টাকা পাঠাতে আর বাধা নেই