image
ছবিঃ সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের চার আসনেই ধানের শীষের জয়

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল

দেশের অন্যতম পর্যটনসমৃদ্ধ অঞ্চল এবং চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত মৌলভীবাজার জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ চারটি আসনেই প্রথমবারের মতো বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলাজুড়ে বিস্তৃত ৯২টি চা-বাগানের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভোটারের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পড়া এই ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অতীতে জেলার অধিকাংশ চা বাগানকেন্দ্রিক ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রাধান্য লক্ষ্য করা গেলেও এবারের নির্বাচনে সেই প্রচলিত ধারা ভেঙে নতুন রাজনৈতিক বার্তা সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ধারণা ছিল- চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের দিকে ঝুঁকে থাকে। তবে এবারের ফলাফল সেই ধারণায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

আসনভিত্তিক ফলাফল (বেসরকারি তথ্য)

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি)

মোট ১১৩টি কেন্দ্রের সবকটির ফলাফল পাওয়া গেছে। নাসির উদ্দিন আহমদ (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ২৭৭ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আমিনুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭৮ হাজার ২১৪ ভোট। পোস্টাল ভোট গণনা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৮টি। চূড়ান্তভাবে এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া)

মোট ১০৩টি কেন্দ্রের ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। শওকতুল ইসলাম শকু (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭০৭ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শাহেদ আলী (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৯৮ ভোট। পোস্টাল ভোট গণনা বাকি রয়েছে ৩ হাজার ৮৪৩টি। এ আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।

মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর)

মোট ১৭৫টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এম নাসের রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৫ ভোট, আর তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মান্নান (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৩৬২ ভোট। পোস্টাল ভোট গণনা বাকি রয়েছে ৪ হাজার ১২৬টি। বড় ব্যবধানে এ আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)

মোট ১৬৩টি কেন্দ্রের ফলাফল সম্পন্ন হয়েছে। মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৮ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ নুরে আলম হামিদী (বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস, রিকশা) পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৩৮৯ ভোট। পোস্টাল ভোট গণনা বাকি রয়েছে ৩ হাজার ১০১টি। এ আসনেও নিরঙ্কুশ জয় এসেছে ধানের শীষ প্রতীকের ঝুলিতে।

ভোটের প্রবণতায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত : চা বাগানের শ্রমিক ভোটারসহ শহর ও গ্রামাঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অধ্যুষিত কেন্দ্রগুলোতেও ধানের শীষ প্রতীক রেকর্ডসংখ্যক ভোট পাওয়ায় জেলার সামগ্রিক ভোটের চিত্রে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। একযোগে চারটি আসনে একই দলের বিজয় স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চা শ্রমিকনির্ভর অর্থনীতি, প্রবাসী আয়ের প্রভাব এবং পর্যটন সম্ভাবনাময় এই জেলার ভোটের ফলাফল বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিফলন হতে পারে। এখন নজর থাকবেÑ নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চা শ্রমিকদের জীবনমানোন্নয়ন এবং পর্যটন খাতের বিকাশে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজারের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ঝিনাইদহ-৩ : রাজনৈতিক পালাবদল, দীর্ঘ বিরতির পর জামায়াতের ঘরে ফিরল আসন

সম্প্রতি