বহুল আলোচিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনের লড়াই শেষে স্পষ্ট ফলাফল সামনে এসেছে। বেসরকারি গণনায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মতিয়ার রহমান ২৪ হাজার ৩৫০ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন। ১৬৬টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরুতে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং ফলাফল একপেশে হয়ে ওঠে। নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই এই আসনটিকে ঘিরে ছিল বাড়তি উত্তাপ। কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চল, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং পৌর শহরগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চালান প্রার্থীরা। ভোটের দিন সকাল থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী ভোটার ও তরুণদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায়, গ্রামীণ জনপদে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে বড় ব্যবধান তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা রাখে। পৌর এলাকাতেও জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রার্থীর ধারাবাহিক গণসংযোগ, সাংগঠনিক শক্তি ও উন্নয়নভিত্তিক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে।
ফলাফল ঘোষণার পর মহেশপুর ও কোটচাঁদপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল বের করা হয়। সমর্থকরা ফুল ও মিষ্টি নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীর বাসভবনে ভিড় করেন। অনেকেই এটিকে দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই জয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ১৯৭৬ সালে এই আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মাওলানা মোজাম্মেল হক। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে আসনটি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দখলে ছিল। কয়েক দশক পর আবারও জামায়াতের প্রার্থীর বিজয় দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উপজেলা জামায়াতের আমির ফারুক আহমেদ ফলাফল প্রকাশের পর বলেন, এটি জনগণের রায় এবং মানুষের আস্থার প্রতিফলন। তিনি জানান, রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সবাইকে নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা তাদের।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝিনাইদহ-৩ আসনের এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। বিশেষ করে তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন ও ভোটার সংযোগ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই আবারও প্রমাণিত হলো এই নির্বাচনের মাধ্যমে। এখন নজর থাকবে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নবনির্বাচিত প্রতিনিধি কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
অর্থ-বাণিজ্য: ওয়ালটন ই-বাইকে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়
অর্থ-বাণিজ্য: দেশের ভেতরে নগদ অর্থ বহনে কোনো সীমা নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক