ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভোট গণনা শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান ফলাফল ঘোষণা করেন।
নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা)
নীলফামারী-১ আসনে ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সাত্তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী (খেজুর গাছ) পান ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট। বিজয়ের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৫৪ ভোট।
নীলফামারী-২ (সদর আসন)
নীলফামারী-২ আসনে ১৩৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ পান ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০২ ভোট। বিএনপি প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন পান ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭৯ ভোট। ব্যবধান ১০ হাজার ৬২৩ ভোট।
নীলফামারী-৩ (জলঢাকা)
নীলফামারী-৩ আসনে ১০৫টি কেন্দ্রের ফলে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী পান ১ লাখ ৮ হাজার ৫৬০ ভোট। বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ আলী পান ৮৯ হাজার ১০২ ভোট। ব্যবধান ১৯ হাজার ৪৫৮ ভোট।
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ)
নীলফামারী-৪ আসনে ১৬৯টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম পান ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ ভোট। বিএনপি প্রার্থী আব্দুল গফুর সরকার পান ৮১ হাজার ৫২৬ ভোট। ব্যবধান ৪৩ হাজার ৩৩৯ ভোট চার আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বিজয়ীদের প্রতিক্রিয়া
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিজয়ী প্রার্থীরা ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।
ভোটারদের প্রত্যাশা
ডোমার-ডিমলা উপজেলার ভোটারা বলেন, পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রত্যাশায় মানুষ ভোট দিয়েছে। এখন রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চাই।
এ জেলার সর্বস্তরের মানুষ বলছেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হয়েছে। দুর্নীতি কমে সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হোক- এটাই প্রত্যাশা।
জেলার চার আসনে একই দলের বিজয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এখন নজর থাকবে, নির্বাচনী অঙ্গীকার কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয়।