image

পাহাড়ে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন

প্রতিনিধি, বান্দরবান

বান্দরবানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বান্দরবান ৩০০নং আসনের ভোট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। জেলার সাতটি উপজেলা, ২টি পৌর সভা ও ৩৪টি উইনিয়নে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়। তবে ভোট চলাকালে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে বিএনপির প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান শহরের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা) মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বান্দরবান শহর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি আবু সাঈদ সুজাউদ্দিন ও জাতীয় পার্টির আবু জাফর ওয়ালীউল্লাহ বান্দরবানের ভোটার না হওয়ায় কোথায় ভোট দিয়েছে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একাধিকবার মোঠফোনে যোগাযোগ করে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব্য হয়নি। চারজন প্রাথী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে সকাল থেকে কনকনে শীতের মধ্যেও দূরদূরান্ত থেকে পাহাড়ি এলাকায় পায়ে হেঁটে ভোটকেন্দ্রগুলোতে পাহাড়ি-বাঙ্গালী নারী-পুরুষ ভোটাররা ভোট দিতে আসেন। বিভিন্ন বয়সী ভোটাররা ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। জেলার দুর্গম সদরসহ সাতটি উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই অনেক ভোটারকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। বিশেষ করে উপজেলা সদর এলাকার কেন্দ্রগুলোতে নারী-পুরুষ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পাহাড়ি ও বাঙালি-উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন ভোট উৎসবে। অনেক নারী ভোটার সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই কেন্দ্রে আসেন, যা ছিল দিনটির একটি উজ্জ্বল চিত্র। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকা হওয়া সত্ত্বেও ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল সন্তোষজনক। কয়েকজন ভোটার বলেন, তারা শান্ত পরিবেশে নির্বিঘেœ ভোট দিতে পেরে স্বস্তি অনুভব করেছেন। বেশ কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে আলাপ কালে জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছি এবং কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, পরিবেশ অনেক ভালো। ভোটাদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোটারা।

অন্যদিকে জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভা এবং ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে ৩০০নং আসন নির্বাচনী এলাকা বান্দরবান। নির্বাচনী এলাকা নিরাপত্তা বাহিনী সদস্যরা ছিলেন কড়া প্রহরায়া কেন্দ্রেগুলোতে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কমিটির সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৫ ম্যাজিস্ট্রট, প্রায় সাত হাজার বাহিনী কড়া প্রহরায়া ছিলেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৮৭টি।

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শনে কালে বলেন, কেন্দ্রগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ছিল বাড়তি নজরদারি। দিনভর বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার রাখা হয়, যাতে ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের বিঘœ না ঘটে। সার্বিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল সুশৃঙ্খল। নির্বাচনের নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৫ ম্যাজিস্ট্রট, প্রায় সাত হাজার বাহিনী কড়া প্রহরায়া ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ভোটারদের মাঝে ভোটের উৎসাহ উদ্দিপনা দেখছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত ছিলেন কেন্দ্রগুলোতে। এ সময় নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৩৫ জন আহত, ২০ বসতবাড়ি ভাঙচুর

» ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে ৫টিতে বিএনপি ও জোট, ১টিতে স্বতন্ত্র জয়ী

» কুমিল্লার ৮টি আসনেই বিএনপির চমক

» কেশবপুরে ৪৭ বছরেও হারানো আসন উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি

» খুলনায় ৪টিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত বিজয়ী, হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর পরাজয়

সম্প্রতি