অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নেতাদের সমন্বয়ের অভাব, উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়াসহ হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তনের প্রভাবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ৯০ যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের চরম ভরাডুবি হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘ ৪৭ বছরেও হারানো আসন উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি।
জানা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে ১৯৭৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী প্রয়াত গাজী এরশাদ আলী। এরপর থেকে আর কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এআসনে জয়ের স্বাদ পায়নি বিএনপি। অথচ শহরেই রয়েছে তাদের দলের শক্তিশালী ঘাটি। সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে দলের শীর্ষ নেতা আবুল হোসেন আজাদ ও পৌরসভার কাউন্সিলর মশিয়ার রহমান অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনেও এর অবসান হয়নি। দলের মধ্যে বিভক্তি স্থায়ী হয়ে যায়।
চলতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল হোসেন আজাদ সমর্থকদের নিয়ে দলীয় মনোনয়ন পেতে মিছিল মিটিং অভ্যাহত রাখে। অপরদিকে, কাউন্সিলর মশিয়ার রহমান তার নেতাকর্মী সমর্থকদের নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রওনোকুল ইসলাম শ্রাবনের পক্ষে মিছিল মিটিং করে আলোচনায় আসেন। দল থেকে রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। তিনি প্রায় ২ মাস ধরে মাঠ চষে বেড়ানোর সময় এ আসনে রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণকে বাদ দিয়ে হঠাৎ দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় আবুল হোসেন আজাদকে। ফলে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশে রূপ নেয়। রওনোকুল ইসলাম শ্রাবণ গ্রুপের নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদের পক্ষে ভোট করলেও তা ছিল লোক দেখানো, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাঠে। অনেক নেতাকর্মীকে দলের বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায় বলে সাধারণ ভোটাররা অভিযোগ করেন। দলের নেতাদের সমন্বয়ের অভাব, তৃণমূল নেতাকর্মীদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের দলের বিপক্ষে অবস্থান নেয়াসহ হঠাৎ প্রার্থী পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘ ৪৭ বছরেও হারানো আসন উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি।
যে কারণে নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯১০৩৭ ভোট পান। অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ পান ৭৯১৫৯ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ১১৭৮৭ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়।