ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে ৩৬ জন তাদের জামানত হারিয়েছেন। এ তালিকায় নাম রয়েছে একাধিক সাবেক সংসদ সদস্যেরও। কেউ কেউ তিনবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
নির্বাচনী আইনানুযায়ী, কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটের কম পেলে তার জমা দেয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসাবে নারায়ণগঞ্জের পাঁচ আসনে বৈধ ভোটের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করতে না পারায় এই ৩৬ জন প্রার্থীর জামানত হারাতে হচ্ছে। এরমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ৫ জন করে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ৯ জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১০ জন এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনে ৬৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট অর্থাৎ যা ২ লাখ ৬১ হাজার ৪৮১ ভোট কাস্ট হয়। এরমধ্যে ৫ হাজার ৯৭ ভোট বাতিল হয়ে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৪টি। এই বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হলো ৩২ হাজার ৪৮টি।
এই হিসাবে জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের ওয়াসিম উদ্দিন (২১৯), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল (৪৬৩), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমদাদুল্লাহ (৭ হাজার ১৮৬), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন (২৬১) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. রেহান আফজাল (২০৭)।
নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনেও পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। এখানে ৬৪ দশমিক ২৪ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৩৩ হাজার ৯০৬ ভোট কাস্ট হয়। এর ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট বাতিলে হয়ে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৩টি। এর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হয় ২৮ হাজার ৭৫৯ ভোট।
জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছেন এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বহিস্কৃত বিএনপি নেতা মো. আতাউর রহমান খান। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট পেয়েছেন। এছাড়াও জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মো. হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. হাফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. আবু হানিফ হৃদয় এবং গণঅধিকার পরিষদের কামরুল মিয়া ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁ) আসনে ১১ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। এখানে ৫৭ দশমিক ৪১ শতাংশ অর্থাৎ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬১৬ ভোট কাস্ট হয়। এরমধ্যে ৭ হাজার ৭৬৪ ভোট বাতিল হওয়ায় বৈধ ভোট দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩২ হাজার ৮৫২টি। এর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হলো ৪১ হাজার ৬০৭ ভোট।
এ তালিকায় নাম রয়েছে দুই সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ও মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এছাড়াও জামানত হারিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের অঞ্জন দাস, জনতার দলের আবদুল করীম মুন্সী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আরিফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম মসীহ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহজাহান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. ওয়াহিদুর রহমান মিল্কী।
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। আসনটিতে ৪৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮ ভোট কাস্ট হয়। এর ৬ হাজার ৩৫৯ ভোট বাতিল হওয়ে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৭২৯টি। যার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হচ্ছে ৩২ হাজার ৮৪১ ভোট।
এ আসনেও জামানত হারানোদের মধ্যে দুজন সাবেক সংসদ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক বিএনপি নেতা গিয়াস উদ্দিন ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) মোহাম্মদ আলী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. ইছমাঈল হোসেন কাউছার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ইকবাল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা, গণঅধিকার পরিষদের মো. আরিফ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. সুলাইমান দেওয়ান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. সেলিম আহমেদ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সেলিম মাহমুদ।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। এখানে ৫৬ দশমিক ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ২ লাখ ৭৪ হাজার ২৫০ ভোট কাস্ট হয়। এর ৭ হাজার ৮৯৩ বাতিল হওয়ার ফলে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩৫৭টি। এর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হচ্ছে ৩৩ হাজার ২৯৫ ভোট।
জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি মো. মাছুম বিল্লাহ, সিপিবির মন্টু চন্দ্র ঘোষ, গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের মো. নাহিদ হোসেন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সৈয়দ বাহাদুর শাহ মুজাদ্দেদী, বাসদের আবু নাঈম খান বিপ্লব এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) এইচ এম আমজাদ হোসেন মোল্লা।