বাগেরহাটে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৩৫ জন আহত, ২০ বসতবাড়ি ভাঙচুর

জেলা বার্তা পরিবেশক, বাগেরহাট

বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার, (১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ, কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, পটুয়াখালী ও দিনাজপুরে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলায় অন্তত ২০টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করেছে প্রতিপক্ষ। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রায় প্রতিটি ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করা হচ্ছে। এদিকে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি কারি মোল্লা, জামায়াতের কর্মী জাহাঙ্গীর শেখ, ইয়াকুব আলী হাওলাদার, মশিউর রহমানসহ পাঁচ-ছয়জনের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গভীর রাতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল লোক ওই ঘটনা ঘটায়। এদিকে ঘটনার জেরে শুক্রবার সকালে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাড়িসহ সাত-আটজন বিএনপি কর্মীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির অভিযোগ, জামায়াতের সমর্থক আনোয়ারুল হাওলাদার ও সুমন হাওলাদারের নেতৃত্বে এই হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ইমরান ও তারেক নামের দু’জনকে আটক করেছে। কচুয়া উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী ভোট কম পাওয়ায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও না পেয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী শেখ আবদুস সালামকে উদ্ধার করে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বাড়ি চন্দ্রপাড়া গ্রামে।

আবদুস সালামের ছেলে নাহিদ হাসান বলেন, ‘শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাজার থেকে সার কিনে নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে ফতেপুর বাজারের কাছে একদল সন্ত্রাসী রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার বাবার পথ রোধ করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে আমার বাবাকে বেধড়ক মারধর করে ফেলে যায়।’

এদিকে কচুয়া উপজেলার গোপালপুর শহীদ আসাদ স্মৃতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর প্রতিপক্ষের মারধরে আসাদ মোল্লা, মোশারেফ শেখ ও শফিক মীর নামে বিএনপির তিন কর্মী আহত হয়েছেন।

আহত ব্যক্তিদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের (ঘোড়া প্রতীক) সমর্থক মিজান শেখের নেতৃত্বে কয়েকজন আসাদ মোল্লা ও মোশারেফকে মারধর করে। শরীফ শিকদার ও সজীব শিকদার মারধর করে শফিক মীরকে।

এছাড়া কচুয়ার বাধাল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের সমর্থকরা হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে।

এদিকে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলায় বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও হুমকি দেয়ার অভিযোগ করেছেন ওই আসনের বিজয়ী প্রার্থী আবদুল আলীম।

নির্বাচনে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বাগেরহাট ১, ২ ও ৪ এই তিনটি আসনের জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছে। আর বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, হুমকির অভিযোগ তুলে বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম বলেন, ‘নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পরাজিত এবং বিজিত প্রার্থীর সমর্থকরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা করছে। আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর, বাড়িঘরে হামলা করেছে, হুমকি দিচ্ছে। যা মোটেই কাম্য নয়। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাই।’

তবে বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ‘এগুলোর সঙ্গে আমাদের দলের কেউ জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনকেও আমি কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানাই।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আসছে। ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর আছে। যে কোনো অপরাধের বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেসব ঘটনা ঘটেছে, জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনে ৫টিতে বিএনপি ও জোট, ১টিতে স্বতন্ত্র জয়ী

» কুমিল্লার ৮টি আসনেই বিএনপির চমক

» কেশবপুরে ৪৭ বছরেও হারানো আসন উদ্ধার করতে পারেনি বিএনপি

» খুলনায় ৪টিতে বিএনপি, দুটিতে জামায়াত বিজয়ী, হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর পরাজয়

সম্প্রতি