রংপুর-৪ ও রংপুর-৬ আসনে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল পুনর্গণনার দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। টায়ার জ্বালিয়ে দফায় দফায় অবরোধ করা হয় বিভিন্ন সড়ক। অন্যদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনের হরাগাছ ও পীরগাছা এবং রংপুর-৬ আসনের পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে গভীর রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, প্রশাসনের সহায়তায় ইঞ্জিনিয়ারিং করে তাদের প্রার্থীদের হারানো হয়েছে।
রংপুর-৪ আসনে বিজয়ী এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেন রাতে নগরীর জুলাই চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, তার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। অনেককে মারধর ও আহত করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি। একই সঙ্গে বিএনপি প্রার্থীর তোলা কারচুপির অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জনগণ ভোট কারচুপির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে। আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্যই এনসিপি প্রার্থী এসব অভিযোগ করছেন বলে দাবি তার। তিনি বলেন, রংপুর-৪ আসনের ভোট পুনর্গণনা করতে হবে। তা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তবে বিএনপি প্রার্থী এমদদিুল হক ভরসার একটি কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে হারানো হয়েছে। ৮ থেকে ১০ হাজার ভোট বাতিল করা হয়েছে বলে তার দাবি। তিনি বলেন, অনেক কেন্দ্র থেকে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। অন্তত ২০টি কেন্দ্রে ধানের শীষের ভোট শাপলা প্রতীকে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই ফলাফল মানি না, পুনর্গণনা চাই, বলেন ভরসা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করলেও সাক্ষাৎ পাননি। জেলা প্রশাসক ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলার হরাগাছ পৌর এলাকার হকবাজারে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। রংপুর-হরাগাছ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেন তারা।
রংপুর মেট্রোপলিটনের হরাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান বলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত। হাজার হাজার মানুষ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
একই দাবিতে পীরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। দ্রুত ফল পুনর্গণনার দাবি জানানো হয় নির্বাচন কমিশনের কাছে।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী, রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) আসনে এনসিপির আখতার হোসেন শাপলা প্রতীকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনেও একই অভিযোগে বিক্ষোভ করেন বিএনপি প্রার্থী সাইফুল ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে পুনর্গণনার দাবি জানান। সাইফুল ইসলামের অভিযোগ, অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে কারচুপি হয়েছে। ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ধানের শীষে সিল দেওয়া ৫ হাজারের বেশি ব্যালট বাতিল করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পুনর্গণনা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি।
উল্লেখ্য, রংপুর-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২০ হাজার ১২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৩ ভোট।
সারাদেশ: রাজধানীতে গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত