image

রাজশাহীতে ২০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

জেলা বার্তা পরিবেশক, রাজশাহী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রাজশাহী বিভাগের ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া বাকি সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, কোনো আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাতিল হবে।

এতে দেখা যায়, রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি। এ আসনটিতে জামানত রক্ষা করতে প্রত্যেক প্রার্থীকে ৪৩ হাজার ৯৮১টি ভোট পেতে হবে। এ আসনে ৩ জন প্রার্থী সে অনুযায়ী ভোট পাননি। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মির মো. শাহজাহান পেয়েছেন ৪০৭ ভোট। আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী আব্দুর রহমান পেয়েছেন ১১ হাজার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ পেয়েছেন ৬৬৩ ভোট।

রাজশাহী-২ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬টি। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ২৯ হাজার ৪৯০টি ভোট। তবে এ আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রদত্ত ভোট পাননি। তারা হলেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মু. সাঈদ নোমান পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। নাগরিক ঐক্যের প্রর্থী সামছুল আলম পেয়েছেন ৫৫২ ভোট। বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মেজবাউল ইসলাম পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ পেয়েছেন ৮০১ ভোট।

রাজশাহী-৩ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭টি। ফলে এই আসনটিতে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ৪০ হাজার ৯২৬টি ভোট। এ আসনে ৪ জন প্রার্থী এই ভোট পাননি। তারা হলেন, আম জনতার দলের প্রার্থী সাইদ পরভেজ পেয়েছেন ২৯৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ১৫৪টি, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অফজাল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবীবা বেগম পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ ভোট।

রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। ফলে এ আসনটিতে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ২৮ হাজার ৮৯৯ টি ভোট। তবে এ আসনে দুজন প্রার্থী ভোট পাননি। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পপ্রর্থী তাজুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৭০ ভোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ ভোট।

রাজশাহী-৫ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬টি। ফলে এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৩০টি ভোট পেতে হবে। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী সেই ভোট পাননি। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯৩৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রুহুল আমিন পেয়েছেন ৬২০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খাইরুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৪৯৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাউসার পেয়েছেন ৪৪২ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৩২ ভোট।

রাজশাহী-৬ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০২টি। ফলে এ আসনটিতে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হবে ৩১ হাজার ৬৬৩ ভোট। এ আসনে দুজন প্রার্থী সমপরিমাণ ভোট পাননি। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস সালাম সুরুজ তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৬২৮টি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩০ ভোট।

রাজশাহী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেন, কোন প্রার্থীকে তার আসনের প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। এতে রাজশাহীর ৬টি আসনের মোট ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। দুটি আসনে জামায়াত ইসলামের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ১৬০ কেন্দ্রের মধ্যে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুজিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। বিএনপির প্রার্থী শরীফ উদ্দীন পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট। ১ হাজার ৮৮৪ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন মুজিবুর রহমান।

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে মোট কেন্দ্র ১১৬টি। এর মধ্যে সবকটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু পেয়েছেন ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট। ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু।

রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে মোট কেন্দ্র ১৩১ টি। সবকটি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। এখানে ৩৮ হাজার ৩৯১ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন শফিকুল হক মিলন।

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১২২টি। এর মধ্যে ১২২টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলে জামায়াত মনোনীত পদপ্রর্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ডিএমডি জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট। ৫ হাজার ৭৬৫ ভোটের ব্যবধানে ডা. আব্দুল বারী সরদার বিজয়ী হয়েছেন।

রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৩২টি। এরমধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট। এখানে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা মনজুর রহমান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৫ ভোট। নজরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৮০ ভোটের ব্যবধানে।

রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৯টি। এরমধ্যে ১১৯ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে বিএনপির পদপ্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট। এ আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী নাজমুল হক পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট। আবু সাঈদ চাঁদ বিজয়ী হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭০৭ ভোটের ব্যবধানে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি