ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৩ জনই জামানত হারিয়েছেন। পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত ১২ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র এক প্রার্থী পর্যাপ্ত ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের বার্তাশিট পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
জামানত হারানোদের মধ্যে রয়েছে, জাতীয় পার্টির ৫ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ছয় জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ একজন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ একজন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) পার্টি ঈগল প্রতীকের দুইজন, স্বতন্ত্র তিনজন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা একজন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (কাস্তে) একজন, খেলাফত মজলিস (দেওয়াল ঘড়ি) একজন, গণঅধিকার পরিষদ (ট্রাক) একজন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি (রকেট) এর একজন জামানত হারিয়েছেন।
যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, সংসদ নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, কোনো আসনের নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে।
প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যশোর-১ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৬২৬, যা মোট ভোটারের শতকরা ৭০ দশমিক ৪৮ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ২৭ হাজার ৪৫৪ ভোট। জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম ”ঞ্চল এক হাজার ৩৯৮ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বক্তিয়ার রহমান এক হাজার ৭৬৮ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
যশোর-২ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৫। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭০ দশমিক ৫৩ ভাগ। এই আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪২ হাজার ৭৪৯ ভোট। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী ৫ হাজার ৭৮১ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর প্রার্থী ইমরান খান ৪৭২ ভোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর প্রার্থী শামছুল হক ২৩৩ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টির রিপন মাহমুদ ৪১৬ ভোট, মনোয়নয়নপত্র জমা দিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন প্রত্যাহার করা চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল হক ১৮৮ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান ৩৮৯ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
যশোর-৩ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৮। যা মোট ভোটারের শতকরা ৬৭ দশমিক ৭৬ ভাগ। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৫১ হাজার ৯৬৩ ভোট। কিন্তু এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ১৩ হাজার ৩২৩ ভোট, জাতীয় পার্টি খবির গাজী ৩ হাজার ৪০৪ ভোট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা প্রার্থী নিজামউদ্দিন অমিত এক হাজার ৭৭২ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির রাশেদ খান ৭৫৩ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
যশোর-৪ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭২ দশমিক ২৭ ভাগ। জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৪১ হাজার ৪২৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের এম নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ ৭৯৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়োজীদ হোসাইন ১১ হাজার ৮৩৮ ভোট, খেলাফত মজলিসের আশেক এলাহী ৩০১ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের আবুল কালাম গাজী ২৫৭ ভোট, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক এক হাজার ৭৫১, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) সুকৃতি কুমার মন্ডল এক হাজার ৫১০ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
যশোর-৫ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০২। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭৬ দশমিক ৫০ ভাগ। জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ৩৫ হাজার ৭৯০ ভোট। কিন্তু এ আসনে জাতীয় পার্টির এমএ হালিম দুই হাজার ২৪৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জয়নাল আবেদীন চার হাজার ৪শ’ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের কামরুজ্জামান দুই হাজার ১০৩ ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
যশোর-৬ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোট এক লাখ ৭৮ হাজার ৫০৮। যা মোট ভোটারের শতকরা ৭৭ দশমিক ৯০ ভাগ। জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট দরকার ছিল ২২ হাজার ৩১৪ ভোট। কিন্তু এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম হাসান ৯৯০ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি মাহমুদ হাসান ৬৭২ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শহিদুল ইসলাম এক হাজার ২৮৫ ভোট পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: দেশজুড়ে বাংলালিংক অরেঞ্জ ক্লাবের ৪ হাজারের বেশি পার্টনার আউটলেট
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প নিয়ে অনলাইনে জাইকার আলোকচিত্র প্রদর্শনী