image

প্রকৃতি-সংস্কৃতির মেলবন্ধন শিমুল বাগানে জমল বসন্ত উৎসব

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ

বসন্তের আগুন রঙে ভেসেছে এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান। শনিবার পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মানিগাঁওয়ে জমে উঠেছে বসন্ত বরণের উৎসব। আগুনঝরা শিমুল ফুলে ছেয়ে যাওয়া এ বাগানে নারী-পুরুষের পদচারণায় যুক্ত হয়েছে ভিন্ন এক মাত্রা।

গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাগান প্রাঙ্গণে শুরু হয় বসন্ত বরণের আয়োজন। ছিল সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনা। প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত এই শিমুল বাগানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক অনন্য আবহ। রঙিন পোশাকে তরুণ-তরুণী, পরিবার-পরিজন ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকে দুপুর গড়ানো পর্যন্ত দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় বাগান পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

সিলেট থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘শিমুল বাগানের সৌন্দর্য চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। চারদিকে শুধু লাল আর লাল। বসন্ত বরণ অনুষ্ঠানের কারণে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। পরিবার নিয়ে এসে খুব ভালো লাগছে।’

আরেক পর্যটক নুসরাত জাহান শীলা বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উদযাপনের জন্য শিমুল বাগানকে অনন্য আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবস উপভোগ করতে অবশ্যই শিমুল বাগানের বিকল্প নেই। তবে এখানে আসার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আসার রাস্তায় মন ভেঙে গিয়েছিল। এখন বাগানে এসে খুবই ভালো লাগছে।’

পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবির জানান, দর্শনার্থীদের পদচারণায় তাদের বিক্রি বেড়েছে। ফলে বসন্ত উৎসব শুধু আনন্দই নয়, আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও গতিশীলতা তৈরি করছে।

প্রায় একশ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বাগানে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন হাজারের বেশি শিমুলগাছ রয়েছে। ২০০৩ সালে বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে বাগানটি গড়ে তোলেন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত আলহাজ জয়নাল আবেদিন। গাছগুলো বড় হয়ে ফুল ফোটানো শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নজর কাড়ে এটি। একপর্যায়ে এটি এশিয়ার সর্ববৃহৎ শিমুল বাগান হিসেবে পরিচিতি পায়।

শিমুল বাগানের মালিক ও প্রয়াত জয়নাল আবেদিনের ছেলে রাকাব উদ্দিন বলেন, ‘আমার বাবা ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি এই বাগান তৈরি করেন। প্রতিবছর বসন্ত এলেই শিমুল ফুলে বাগান লাল হয়ে ওঠে। এবার জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বসন্ত বরণ অনুষ্ঠান হওয়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। আমরা চাই এই বাগানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হোক।’

জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক পাবেল বলেন, ‘বসন্ত আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকৃতির সঙ্গে সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন মানুষকে আনন্দ দেয়, মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে। তাহিরপুরের শিমুল বাগান এখন জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতি বছর এই বাগানে বসন্ত অনুষ্ঠান করে থাকি। এবার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি।’

প্রকৃতির রঙে রাঙানো শিমুল বাগানে বসন্ত বরণ ও ভালোবাসা দিবসের এমন আয়োজন দর্শনার্থীদের মনে বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। বসন্তের এই রঙিন আমেজ ফুল ঝরা দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজক ও দর্শনার্থীরা।

এসএএম

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি