প্রতিনিধি, ফরিদপুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, বিভিন্ন ছোট দল ও স্বতন্ত্রসহ মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ১৯ জন প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে। অর্থাৎ মোট প্রার্থীর প্রায় ৬৮ শতাংশ (৬৭.৮৫%) জামানত হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে ইলিশ বিক্রি করা এমপি প্রার্থী এবং এক নারী প্রার্থীও হারিয়েছেন জামানত।
গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও ১৯৭২) এর আর্টিকেল ৪৪-এর তিন ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশের কম ভোট পান, তবে তার জমা দেওয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত আসন ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, ফরিদপুরের চারটি আসনে বিজয়ী ও নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া অধিকাংশ প্রার্থীই উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি। বিশেষ করে ফরিদপুর-১, ২ ও ৩ আসনে বিজয়ী ও রানারআপ ছাড়া সকলের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কেবল ফরিদপুর-৪ আসনে বিজয়ী প্রার্থীসহ তিনজন জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফরিদপুর-১ আসন (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী)। এ আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন পেয়েছেন-মোট বৈধ ভোট: ৩,১৮,৯৯৮টি। তাদের জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ৩৯,৮৭৫ ভোট। এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. ইলিয়াস মোল্লা বিজয়ী হন এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। বাকি ছয়জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন, মো. আবুল বাশার খান (ফুটবল)- ৩৪,৩৮৭ ভোট, মৃন্ময় কান্তি দাস (রকেট) ৭৮৬ ভোট, মো. গোলাম কবির মিয়া (মোটরসাইকেল) ২,১৫৯ ভোট, মো. হাসিবুল রহমান (হরিণ) ৪৫৫ ভোট, শেখ আব্দুর রহমান জিকো (উট) ৮৪ ভোট ও সুলতান আহম্মেদ খান (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৫০৬ ভোট।
ফরিদপুর-২ আসন (নগরকান্দা-সালথা) : এ আসনে মোট প্রার্থী ৬ জন মোট বৈধ ভোট পেয়েছেন ২,১৪,৯১৬। তাদের জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ২৬,৮৬৫ ভোট। আসনটিতে বিজয়ী হন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শাহ মো. আকরাম আলী। চারজন প্রার্থীর জামানত জব্দ হয়েছে। জামানত জব্দ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, মো. আকরামুজ্জামান (আপেল) ৬১৭ ভোট, ফারুখ ফকির (ট্রাক) ৬৭৫ ভোট, মো. নাজমুল হাসান (ডাব) ২৫৭ ভোট, শাহ মো. জামাল উদ্দিন (হাতপাখা) ২,৩৬৮ ভোট।
ফরিদপুর-৩ আসন (সদর) : এ আসনে মোট প্রার্থী ৬ জনের মোট বৈধ ভোট- ২,৭৯,১৪৩। তাদের জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ৩৪,৮৯৩ ভোট। এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির নায়াব ইউসুফ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের আবদুদ তাওয়াব। বাকি চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত জব্দ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, নারী প্রার্থী আরিফা আক্তার বেবি (তারা) ২৫১ ভোট, কে এম ছরোয়ার (হাতপাখা) ৪,০২২ ভোট, মোরশেদুল ইসলাম আসিফ (হরিণ) ১,২৫৩ ভোট, মো. রফিকুজ্জামান মিয়া (কাস্তে) ৯৫৭ ভোট।
ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) : এ আসনে মোট প্রার্থী ৮ জন মোট বৈধ ভোট পেয়েছেন ২,৭৪,৯৯২। তাদের জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ৩৪,৩৭৪ ভোট। এখানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বাবুল। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. সরোয়ার হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ (ফুটবল) জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
জামানত জব্দ হওয়া প্রার্থীরা হলেন, আতাউর রহমান (কাস্তে) ৭১৪ ভোট, মিজানুর রহমান (রিকশা) ১,১১৮ ভোট, মুহাম্মাদ মজিবুর হোসাইন (ঘোড়া) ১,৭০৪ ভোট, মো. ইসাহাক চোকদার (হাতপাখা) ১১,৪৯৮ ভোট এবং ১০ কেজি দরে ইলিশ মাছ বিক্রি করা ভাইরাল রায়হান জামিল (লাঙ্গল) পেয়েছেন ৫৫০ ভোট।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা জানান, চারটি আসনের ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে অনেকে খুব কম ভোট পেয়েছেন। যারা নির্ধারিত ভোটের সীমা অর্জন করতে পারেননি, তাদের জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
নাজিম বকাউল/এসএএম