image

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির দাবি

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় শিশুসহ নিহত ৩, ৩০ জেলায় রণক্ষেত্র

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হলেও ফল ঘোষণার পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক নির্বাচনী সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্বাচন পরবর্তী এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশের অন্তত ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক পৃথক সংঘর্ষে আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। এ সব ঘটনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে অন্তত ৩৫০টি রাজনৈতিক কার্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে।

রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে জানান, মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থক ও মাদরাসা শিক্ষক মো. জসিম নায়েব (৩০) প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন। বাগেরহাটের কচুয়ায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার (২৯) এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে নির্বাচনী গোলযোগের জেরে ইমন (১২) নামে এক শিশুর প্রাণহানি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, পাবনা, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, নাটোর, কুষ্টিয়া ও নোয়াখালীসহ অন্তত ৩০টি জেলায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে আহত তিন শতাধিক মানুষ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিন সন্তানের জননীকে “দলবদ্ধ ধর্ষণ” ও “শারীরিক নির্যাতনের” অভিযোগ উঠেছে, যাকে ‘ন্যাক্কারজনক ও উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে নারী নির্যাতনের আরও কিছু লোমহর্ষক চিত্র ফুটে উঠেছে। নির্বাচনী প্রচারণার সময় অন্তত ৩২টি ঘটনায় ৪৫ জন নারী হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং ২৩ জন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নারী কর্মীদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা এবং টাঙ্গাইলের গোপালপুরে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারার মতো বর্বরোচিত ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরএসএসের তথ্যমতে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত ও ১ হাজার ৬৫০ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটি আরও জানায়, নির্বাচনের দিন সারাদেশে ৩৯৩টি অনিয়মের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট এবং পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার ঘটনা ছিল প্রধান। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৫০টি স্থাপনায় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে সংস্থাটি সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি