ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ছয়টি আসনে মোট ৪৮জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ৩৫ জনের জামানত বাতিল হয়েছে। ওইসব প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত (বাতিল) হয়। জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালী-১, আসনে সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের, নোয়াখালী-২, আসনে পাঁচজনের মধ্যে দুইজনের, নোয়াখালী-৩, আসনে সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের, নোয়াখালী-৪, আসনে সাতজনের মধ্যে পাঁচজনের, নোয়াখালী-৫, আসনে ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের ও নোয়াখালী-৬, আসনে ১০ জনের মধ্যে আটজনের জামানত বাজেয়াপ্তসহ এ জেলায় মোট ৩৫ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। রোববার, (১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী-১, (চাটখিল-সোনাইমুড়ী) আসনে জামানত হারিয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলাম (১৯২৮৯ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. নুরুল আমিন (১০৭৫ ভোট), জেএসডির মো. মশিউর রহমান (৪৮২ ভোট), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. মমিনুল ইসলাম (২৭৪ ভোট), ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী (১৮৮ ভোট) ও জেএসডির রেহানা বেগম (৪৮২ ভোট)। এ আসনে এক লাখ ২৬ হাজার ৮৩৩ ভোট পেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন (ধানের শীষ) জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্যাহ (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩৬ ভোট। মোট ভোটার চার লাখ ৫২ হাজার ৪২৫ জন। এখানে ১৪২ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৫২ হাজার ৪৩৪ জন। এতে কাক্সিক্ষত ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন পাঁচজন। নোয়াখালী-২, (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে দুইজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের খলিলুর রহমান (৬২১৭ ভোট) ও জাতীয় পার্টির মো. শাহাদাৎ হোসেন পেয়েছেন (৫৫৭ ভোট)। এ আসনে ৮৩ হাজার ৯৮২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক (ধানের শীষ)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাহী পর্ষদের সদস্য সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার (শাপলা কলি) পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৫৪ ভোট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন বিএনপির বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৭১২ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬০ হাজার ৮২ জন। এখানে ১১২ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট দুই লাখ আট হাজার ১০৭। এ আসনে দুইজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়ছেন। নোয়াখালী-৩, (বেগমগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেনÑ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোহাম্মদ নুর উদ্দিন পেয়েছেন (৯৬৭০ ভোট), খেলাফত মজলিসের মোরশেদ আলম (৭৮৩ ভোট), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির মো. সিরাজ মিয়া (৭৩৮ ভোট), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাজিব উদদৌলা চৌধুরী (৫২৬ ভোট) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ আহমেদ পেয়েছেন (২৫৩ ভোট)। এ আসনে এক লাখ ৩৭ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. বরকত উল্লাহ বুলু (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. বোরহান উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৮২৪ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ১১ হাজার ৭৫৯জন। এখানে ১৬৬ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দুই লাখ ৭৪ হাজার ১৪৬ ভোট। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নোয়াখালী-৪, (সদর-সুবর্ণচর) আসনে পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মো. ফিরোজ আলম মাসুদ (১৪৭৮৩ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. শরিফুল ইসলাম (২৩৪৪ ভোট), বাসদের (মার্কসবাদী) বিটুল চন্দ্র তালুকদার (৯১৭ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের আবদুজ জাহের (৫৪২ ভোট) ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. ইউনুস নবী (৪৯৩ ভোট)। এ আসনে দুই লাখ ১৯ হাজার ১৮২ ভোট পেয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান (ধানের শীষ) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির মো. ইসহাক খন্দকার (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৯ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সাত লাখ ৩৩৮জন। এখানে ১৯৯ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট তিন লাখ ৯৮ হাজার ৬৮৩। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। নোয়াখালী-৫, (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) আসনে ১০ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের আবু নাছের (৬২২৪ ভোট), জনতার দলের মো. শওকত হোসেন (৪৮৫৫ ভোট), জাতীয় পার্টির খাজা তানভীর আহমেদ (১৬৮৪ ভোট), জেএসডির মো. কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী (৫৭৪ ভোট), ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ শামছুদ্দোহা (২৭৭ ভোট), বাসদের (মার্কসবাদী) মুন তাহার বেগম (১৭৩ ভোট), ইনসানিয়াত বিপ্লবের তৌহিদুল ইসলাম (১৬২ ভোট), বিআরপির মোহাম্মদ আনিছুল হক (১৪১ ভোট) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর আলী (৮১৪ ভোট) ও মুহাম্মদ ইউনুছ (১৩৩ ভোট)। এ আসনে এক লাখ ৪৭ হাজার ৮০৮ ভোট পেয়ে বিএনপির উপজেলা সদস্য শিল্পপতি মো. ফখরুল ইসলাম (ধানের শীষ) জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের উপজেলা আমির মো. বেলায়েত হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৪৫৩ ভোট। এখানে মোট ভোটার পাঁচ লাখ তিন হাজার ৮৫২ জন। এ আসনে ১৫৬ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট দুই লাখ ৯১ হাজার ৩৬৯। ১০জন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নোয়াখালী-৬, (হাতিয়া) আসনে আটজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- স্বতন্ত্র সাবেক এমপি মোহাম্মদ ফজলুল আজিম (৪৭৮৩ ভোট) ও বিএনপির বহিষ্কৃত তানবীর উদ্দিন রাজিব (৩৭৬৪ ভোট)। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম শরীফ (২১৯৭ ভোট), জেএসডির মোহাম্মদ আব্দুল মোতালেব (১২৩৯ ভোট), বিএসপির আমিরুল ইসলাম মো. আবদুল মালেক (৫০৫ ভোট), জাতীয় পার্টির এ টি এম নাবী উল্যাহ (২৮০ ভোট), গণঅধিকার পরিষদের মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (১৯১ ভোট) এবং এলডিপির মোহাম্মদ আবুল হোসেন (৮৬ ভোট)। এ আসনে ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ (শাপলা কলি) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২১ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬। এখানে ১০৫ কেন্দ্রে প্রদত্ত ভোট এক লাখ ৭৪ হাজার ৩৩২। এ আসনে আটজন প্রার্থী তাদের জামানত হারিয়েছেন। নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই এসব ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ও অফিস ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বাংলালিংকের নতুন প্রিপেইড অফার ‘ফ্যামিলি প্যাক’ চালু