image
নীলফামারীর (সৈয়দপুর) : প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরেও সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিজস্ব ভবন নির্মাণ হয়নি -সংবাদ

সৈয়দপুরে ৬০ বছরেও নির্মাণ হয়নি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব ভবন

প্রতিনিধি, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারী জেলার শিল্প সমৃদ্ধ উপজেলা সৈয়দপুর। এ উপজেলায় ১৯৬৭ সালে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরেও নির্মিত হয়নি সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রী অফিসের নিজস্ব ভবন। অথচ প্রতি বছর সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অফিস থেকে বছরে কমপক্ষে শত কোটি টাকা সরকারের আয় হয় জমি ক্রয়-বিক্রয় খাত থেকে। শুরুতে এই অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল নতুন বাবুপাড়ার পৌরসভা সড়কের একটি পরিত্যাক্ত ভবনে। পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি থানা উপজেলায় উন্নীত হলে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। গড়ে তোলা হয় আদালত ভবন। এরপর সরকার পরিবর্তন হলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যক্ত হয় ভবনগুলো। সৈয়দপুরের সেই পরিত্যক্ত আদালত ভবনেই নতুন বাবুপাড়ায় থাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসটি স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রায় ৪১ বছর ধরে সেই ভবনেই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম অদ্যাবধি চলে আসছে। ইতোমধ্যে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দরজা জানালা ভেঙ্গে পড়ছে। বর্ষাকালে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। কাগজপত্র সংরক্ষিত রাখার পর্যাপ্ত পরিমাণ র‌্যাক নেই। যার ফলে প্রায় ২৬ হাজার দলিল অরক্ষিত অবস্থায় আছে। আলমিরার অভাবে অনেক মূল্যবান কাগজপত্রও মেঝেতে স্তূপ করে রাখা হয়। এমন অবস্থায় দলিল দস্তাবেজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ওই অফিসে কর্মরত উচ্চমান সহকারি আব্দুর রউফ আশংকা প্রকাশ করেছেন।

কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির নেতা শামীম সরকারের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুধু সাব-রেজিস্ট্রি অফিস নয়, আমাদের দলিল লেখকদেরও স্থায়ী ভবন নেই। এমনকি নকলনবীশরাও অনেক কষ্ট করে বালাম বইয়ে দলিলের নকল করছে। দ্রুত তিনি সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের একাধিক ব্যক্তি জানান, সৈয়দপুর একটি শিল্প ও বাণিজ্যসমৃদ্ধ উপজেলা। এ জনপদের সড়ক মহাসড়কের পাশে থাকা আবাদি জমিগুলোতে গড়ে উঠছে শিল্প এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা। ফলে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের চেয়ে সৈয়দপুর উপজেলার জমির দাম কয়েকগুণ বেশি। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় টাকা দিয়ে এক শতাংশ জমি কেনাভার।

সৈয়দপুরের সঙ্গে দেশের রাজধানীসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক উন্নত। ঢাকার ব্যবসায়ীরা ব্যবাসয়িক কাজে বিমানযোগে সৈয়দপুর অবতরণ করে আবার কাজ শেষে রাতে ফের আকাশপথে ঢাকা চলে যায়। বিগত সরকার বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের ঘোষণা দেয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুঁজিপতিরা সৈয়দপুরে জমি কিনছে। এমন অবস্থায় জমির মূল্য প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বেচাকেনায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত উপ-নিবন্ধক আব্দুল্লাহ আল মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» বাগেরহাট-১ আসনে পরাজিত বিএনপির প্রার্থী পুনরায় ভোট গণনার দাবি

সম্প্রতি