ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় মাদাকাসক্ত ছেলেকে হত্যার পর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চেয়ে আত্মসমর্পণ করেন পিতা আব্দুল বারেক খান(৫৫)। এ ঘটনায় কাঠালিয়া থানা-পুলিশ বারেক খানকে আটক ও নিহত মেহেদী হাসান শুভর মরদেহ উদ্ধার করেছেন।
রোববার, (১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) রাত ৩টায় উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ছোনাউটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মেহেদী হাসান শুভ (২৫) দীর্ঘদিন যাবৎ মাদাকাসক্ত ছিলেন। প্রায়ই সে বাবা-মাকে মারধর, একাধিক এলাকাবাসীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে। তার অত্যাচার নির্যাতনে বাবা-মাসহ এলাকাবাসী আতঙ্কে থাকত। ঘটনার দিন সকালে শুভ বাবার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন এবং বসতঘর ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় সে বাজার থেকে একটি বঁটি কিনে নিয়ে বাড়ি যান। মাকে জানান, টাকা না দিলে আজ রাতে ২ জনকে জবাই করা হবে। এ খবর স্বামীকে জানান মা খুশি বেগম। বারেকের পরমার্শে খুশি বেগম রাতে অন্য ঘরে ঘুমান। রাত ৩টার দিকে বারেক খান ঘুমান্ত ছেলেকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে জাতীয় পরিসেবা ৯৯৯-এ কাঠালিয়া থানার পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় তারা শুভর মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আব্দুল বারেক খানকে আটক করে কাঠালিয়া থানায় নিয়ে আসেন।
এ ঘটনায় শুভর মা খুশি বেগম স্বামী আব্দুল বারেক খানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (কাঠালিয়া-রাজাপুর) সার্কেল মো. শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কাঠালিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আবু নাছের রায়হান ও ওসি তদন্ত হারান চন্দ্র পালসহ পুলিশের একটি দল।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (কাঠালিয়া-রাজাপুর) সার্কেল মো. শাহ আলম জানান, মেহেদী হাসান শুভ মাদাকাসক্ত ছিল। শুভর ভয়ে পরিবারের সদস্যরাসহ এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিল। যেকোন সময় সে মা-বাবা ও এলাকাবাসীকে মারধর ও জখম করতো। ঘটনার দিন রাতে মা-বাবার কাছে শুভ ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলেন পিতা-মাতা দুজনকে জবাই করে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এতে পিতা বারেক ভীতও অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী খুশি বেগমকে অন্য ঘরে ঘুমাতে দিয়ে রাত ৩টার দিকে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে শুভকে হত্যা করে।
সারাদেশ: পলাশে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে চারিদিক
সারাদেশ: মণিরামপুরে পান চাষে আগ্রহী চাষিরা
সারাদেশ: বরুড়ায় জামানত হারালেন ৬ প্রার্থী