সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর চরে নতুন পলিমাটিতে চাষ হচ্ছে লাল সোনা খ্যাত মরিচের। এ বছর মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ভালো দামে মরিচ চাষির মুখে হাসি ফুটেছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এ বছর জেলায় ১৫৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। চাষকৃত মরিচের মধ্যে হাইব্রিড জাতের বিজলী, যমুনা, রশনী, ঝিলিক উন্নত জাতের মধ্যে বারি-৩, সুপার সনিক, রংপুরী, বগুড়া ছাড়াও স্থানীয় জাতের মরিচের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ১১.২৫ মেট্রিক টন এবং শুকনা মরিচের উৎপাদন হয়েছে ২.৪ থেকে আড়াই মেট্রিক টন।
স্থানীয় বাজার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মন শুকনা মরিচ ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায় এবং ১শ থেকে ১২০ টাকা কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় যমুনার চরে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে উৎপাদিত কাঁচামরিচ ও শুকনো মরিচ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিনতে আসছেন পাইকাররা। প্রতি সপ্তাহে শনি ও বুধবার কাজিপুরের নাটুয়াপাড়া হাট বসে। এই হাট থেকে দেশের বড় বড় কোম্পানির প্রতিনিধিসহ ব্যাপারীরা মরিচ কিনে নিয়ে যান। অনেক ব্যাপারী হাট থেকে মরিচ কিনে চরের তপ্ত বালুর ওপর শুকিয়ে নিয়ে যান। এ বছর চরের কৃষকরা মরিচ চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন।
নাটুয়াপাড়া গ্রামের মরিচ চাষি হাফিজ উদ্দিন জানান, এ বছর ১ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছেন। কাঁচামরিচ বিক্রি করেও চার মণ শুকনো মরিচ রেখেছেন। তার এই ১ বিঘা মরিচ ক্ষেতে চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। শুকনো মরিচ বাজারে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি। বর্তমান বাজারে চার মণ মরিচ ৯৬ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান এই মরিচ চাষি।
মেছড়া চরের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে দুই বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করেছি। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ মণ কাঁচামরিচ বিক্রি করেছি। আরও চার মণ মরিচ বিক্রির জন্য শুকিয়ে রেখেছি। এখন যদি শুকনো মরিচ বিক্রি করি তাহলে প্রায় এক লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করতে পারব বলে আশা করি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাসিম হোসেন বলেন, ভালো দামের আশায় চরের কৃষকরা মরিচ চাষে নেমেছে। সদর উপজেলায় হেক্টর জমিতে ৭০০ হেক্টর মরিচের চাষ হয়েছে। এবছর কাঁচা মরিচের দাম বেশী থাকায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের এ বিষয়ে নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কাজীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে চরের কৃষকরা মরিচ চাষে নেমেছে। এবছর এই উপজেলায় ৪৪০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। মরিচের ফলন কীভাবে ভালো হবে সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে চাষিদের। স্থানীয় জাত ছাড়াও চরাঞ্চলে বেড গোল্ড, বিজলী প্লাস, বালিজুরি জাতের মরিচ চাষ হচ্ছে। এ বছর মরিচের ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। তিনি জানান হেক্টর প্রতি শুকনা মরিচের উৎপাদন হচ্ছে ২.৪ থেকে আড়াই মেট্রিক টন।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, মরিচের ভালো দাম থাকায় যমুনা চরের কৃষকরা মরিচ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চলতি বছর জেলায় হেক্টর ১৫৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলায় মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। পাশাপাশি এবারে মরিচের ভালো দামে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে।
সারাদেশ: পলাশে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে চারিদিক
সারাদেশ: মণিরামপুরে পান চাষে আগ্রহী চাষিরা
সারাদেশ: বরুড়ায় জামানত হারালেন ৬ প্রার্থী