পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর। একই সঙ্গে নির্বাচনী আমেজ এর মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
গতকাল শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বসন্তের প্রথম দিন। এ দিনে বসন্ত উৎসব ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হওয়ায় এ বছর আনন্দের মাত্রা ছিল দ্বিগুণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল। বিজয়ী প্রার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতেও ব্যাপক হারে ফুল কিনছেন সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। ফলে গতবারের তুলনায় এ বছর শহরের ফুলের বাজারে বেড়েছে চাহিদা ও দাম দুটোই।
গত শুক্রবার বিকেল থেকেই শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক ও সৈয়দপুর প্লাজা এলাকায় সারিবদ্ধভাবে বসেছিল অস্থায়ী ফুলের দোকান। রঙিন ছাউনি ও ব্যানারে সজ্জিত ছোট ছোট স্টলে শোভাবর্ধন করে লাল গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, জারবেরা ও গ্ল্যাডিওলাসসহ নানা প্রজাতির ফুল। বিশেষভাবে তৈরি করা হয় হৃদয় আকৃতির তোড়া, বসন্ত বরণের মালা ও শুভেচ্ছা কার্ড সংযুক্ত উপহারসামগ্রী।
ফুল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এই সময়টিকে ঘিরেই তাদের বছরের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। তবে এবার দুইটি দিবস একই দিনে হওয়া এবং নির্বাচনী বিজয়ের কারণে বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।
শহরের ফুল বিক্রেতা মো. সাজিদ হোসেন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাইকারি বাজারে ফুলের দাম বেশি। পরিবহন ও সরবরাহ খরচও বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারেও কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা এত বেশি যে বিক্রিতে কোনো ভাটা নেই।
তিনি আরও জানান, গোলাপ স্টিক ৩০ থেকে ৬০ টাকা, রজনীগন্ধার স্টিক ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ছোট-বড় তোড়া ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।
আরেক বিক্রেতা সুমন বলেন, এবার বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে পড়েছে। তার ওপর নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ তোড়া কিনেছেন। গতবারের চেয়ে বিক্রি প্রায় দেড়গুণ। নির্বাচনী বিজয় উদযাপনেও ফুলের বাড়তি কদর দেখা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন তরুণ বলেন, আমরা এলাকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে যাচ্ছি। তাই বড় তোড়া নিয়েছি। নির্বাচনের আনন্দে শহরে আলাদা আমেজ তৈরি হয়েছে।
এদিকে ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে উচ্ছ্বাস। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, পহেলা ফাল্গুন আমাদের সংস্কৃতির উৎসব। বন্ধুদের সঙ্গে বসন্ত বরণ করব, তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে ফুল কিনছি।
অপরদিকে তরুণ আরিফুল ইসলাম জানান, ভালোবাসা দিবসে একটি লাল গোলাপই অনুভূতি প্রকাশের জন্য যথেষ্ট। দাম একটু বেশি হলেও প্রিয় মানুষকে খুশি করার আনন্দটাই বড়।
গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, শুধু তরুণ-তরুণী নয়, পরিবার নিয়েও অনেকে ফুল কিনতে আসছেন। বাচ্চাদের জন্য মালা ও ছোট তোড়া নিয়েছি। শহরে সত্যিই উৎসবের পরিবেশ।
ফুলের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে রঙিন ফিতা, চকলেট ও শুভেচ্ছা কার্ডের অস্থায়ী স্টলও বসেছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয় হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এমন উৎসবকেন্দ্রিক বেচাকেনা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এবার সৈয়দপুর শহরে কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম রেজা বলেন, শহরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য: সুগন্ধি চাল রপ্তানি সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়লো
অর্থ-বাণিজ্য: তারেক রহমানকে বিজিএমইএ’র অভিনন্দন
অর্থ-বাণিজ্য: নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান