image

মণিরামপুরে পান চাষে আগ্রহী চাষিরা

প্রতিনিধি, মণিরামপুর (যশোর)

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বাণিজ্যিক পান চাষ। তুলনামূলক কম জমিতে, সীমিত খরচে দীর্ঘমেয়াদি এই ফসল থেকে ভালো লাভ পাওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় পান চাষিদের।

এ কারণে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই কমবেশি পান চাষ হলেও খানপুর, ঢাকুরিয়া, মশ্বিমনগর, খেদাপাড়া, ভোজগাতীসহ বিভিন্ন গ্রামে অঞ্চলে পান চাষের আধিক্য বেশি লক্ষ্য করা যায়। এখানকার উৎপাদিত পান সরবরাহ হচ্ছে দেশের নানা প্রান্তে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে করছে আরও চাঙ্গা।

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পান চাষ হলেও এই ফসলটি এখনও কাক্সিক্ষতভাবে পরিচিতি লাভ করেনি। তবে পান চাষিদের অভিযোগ, পান চাষ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। রোগবালাই, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও আধুনিক পরামর্শের অভাবে ভুগছেন এ পান চাষিরা।

উপজেলার ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি, তরুয়াপাড়া, প্রতাপকাটি, গাবুখালি, করেরাইল, হরিদাসকাটি ইউনিয়নের সমসকাটি, চান্দুয়া, শ্রীপুর, খানপুর ইউনিয়নের ঘঘুদহ, ফেদাইপুর, ভরতপুর, মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, চাকলা, নোয়ালি, হাজরাকাটিসহ বিভিন্ন গ্রামে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি পানের বরজ। সবুজ পাতার সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, একই সঙ্গে শত শত পরিবারের জীবিকাও নিশ্চিত করছেন পান চাষের মাধ্যমে।

মনিরামপুর বাজারের পান ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ ও ঊমা বলেন, এখানকার ঝাল ও মিষ্টি পানের চাহিদা খুব ভালো। তবে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ভোরে বিভিন্ন জেলার পাইকাররা বাজারে আসে। একইভাবে ঢাকুরিয়া বাজারেও প্রতিদিনি পান চাষিরা পান বিক্রয় করেন। বর্তমানে এক পোন স্থানীয় হিসেবে ৮০টি পান ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে খানপুর ইউনিয়নের পান চাষি সুবোধ কুমার জানান, আমাদের অঞ্চলে পূর্বপুরুষের পেশাই পান চাষ। তিন বিঘা জমিতে তিনটি বরজ রয়েছে। এই বরজই আমার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। আগে বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা লাভ হতো। এখন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ কিছুটা কমেছে। সুবলকাটি গ্রামের বিদ্যুৎ রায় জানান, আমার বাবার পাকিস্তান আমল থেকে পান চাষের উপরে নির্ভর ছিলেন। এ কারণে আমার বাবার বরজ চাষের পেশা ধরে রেখেছি আজও।

তিনি বলেন, পানের নানা রোগ দেখা দেয়। সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় অনেক সময় কার্যকর ওষুধ দিতে পারি না। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ খুব প্রয়োজন, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের তেমন পাওয়া যায় না। এ কারণে আমাদের পান চাষে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখে পড়তে হয়।

এদিকে ভরতপুর গ্রামের চাষি সুলতান আলী জানান, এ এলাকায় মূলত দুই ধরনের পান চাষ হয়—মিষ্টি পান ও সাঁচি পান। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ মিষ্টি পান। এটি বেশি লাভজনক এবং জনপ্রিয়। তবে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো তেমন কেউ নেই।

কৃষক শিমুল হোসেন বলেন, পান চাষের সম্ভাবনা অনেক, কিন্তু বরজ তৈরি করতে শুরুতেই বড় অঙ্কের খরচ লাগে। সরকারি সহায়তা পেলে নতুন অনেক চাষি এই ফসলে আসতে পারত। এতে উৎপাদন বাড়বে, আমরাও আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ হব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বিথী বলেন, এখানকার মাটি ও জলবায়ু পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। উপজেলায় অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে পান চাষ করেন।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা, পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ কোনো কাজ করছে না- এই অভিযোগ সঠিক নয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি