image

পলাশে আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে চারিদিক

প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)

পলাশে দৃষ্টিনন্দন আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে সুরভিত চারিদিক। গাছের ছোট ছোট ডালের সবুজ পাতার মাঝে হলদেটে মুকুল ঝুরি যেন কনক প্রদীপ হয়ে আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই মুকুল ঝুরিগুলো প্রস্ফুটিত হবে মুকুল মঞ্জরিতে। আম গাছগুলো সজ্জিত হবে সাদা, বেগুনি ও হলদেটে ফুলে ফুলে পুষ্পরেণুর সাজে। গাছে গাছে মৌমাছির গুঞ্জন আর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে প্রকৃতিতে সৃষ্টি হবে এক নতুন ছন্দের। কয়েক মাসের মধ্যেই পুষ্পরাণী আম গাছের ডালে ডালে ঝুলবে নানা জাতের, নানা বর্ণের আম।

পলাশ উপজেলার বিভিন্ন জাতের আম গাছগুলোতে মুকুলে ভরে গেছে। এ মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে প্রকৃতি। আমের ফলননির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান মালিকরা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আম গাছে শোভা পাচ্ছে শুধুই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন।

মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। যেদিকে তাকাই গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমাণ সোনালী মুকুলের আভা।

মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি গাছ। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে। শীতের, জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতান করতে আবারও ফিরে আসছে ঋতুরাজ বসন্ত।

এবার প্রায়ই ৯৫ শতাংশ গাছেই এসেছে আমের মুকুল। বাগান মালিক, কৃষি কর্মকর্তা ও আম চাষিরা আশা করছেন, বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। বর্তমানে আমচাষি ও বাগান মালিকরাও বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার বলেন, পলাশের বাগান মালিকরা প্রায়ই ৮৯ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করেছে। এর মধ্যে আম্রপলী, বারিফল, থাইল্যান্ডের আম, জাপানী আম ও দেশি আম। তিনি বলেন আমের ফলন ভালো হওয়ার জন্য আমরা আমচাষিদের বিজ্ঞানসম্মত পরিচর্যা করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। কৃষি অফিসের টিমও সর্বদা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকলে এবার কাক্সিক্ষত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। পলাশজুড়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। উৎপাদিত আম মানসম্মত হওয়ায় চাহিদাও বাড়বে অনেক।

পলাশ পজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তার বলেন, আগামী বৈশাখ-জ্যেষ্ঠে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ অঞ্চলে ভালো আম উৎপাদন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি