image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

বেসরকারি ব্যাংকে পল্লীবিদ্যুৎ বিল না নেয়ায় ভোগান্তি

প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কটিয়াদী সদরের বহু গ্রাহকের পল্লীবিদ্যুতের বিল পরিশোধে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে কটিয়াদী পুরান বাজার, বীর নোয়াকান্দী ও পশ্চিমপাড়া এলাকর প্রায় দেড় হাজার বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহক আছেন, তাদের কাছাকাছি ব্যাংক রয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অনুমতি না থাকায় সেই ব্যাংকে গ্রহকদের বিল নিতে পারছে না।

কটিয়াদী বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রিয়লাল রায়, রাসেল মিয়া, গৌরাঙ্গ রায় ও নাঈম মিয়াসহ অনেকেই জানান, উপজেলা সদরের একটু দূরবর্তী এলাকায় অন্যান্য ব্যাংকের শাখা রয়েছে। সেসব শাখায় এমনিতেই প্রচুর গ্রাহককে দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে বিল জমা দিতে হয়। ফলে দূরত্ব এবং গ্রাহকের লম্বা লাইনের কারণে দেড় হাজার গ্রাহককে সেখানে বিল দিতে গেলে সব গ্রাহককেই বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হয়। ওইসব ব্যাংকেও বাড়তি কাজের চাপ পড়ে।

গ্রহকরা জানান, পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডকে অনুমতি দিলেই তাদের পুরান বাজার শাখায় সহজেই বিল জমা দেয়া যেত। তাতে গ্রাহকদের স্বস্তির পাশাপাশি অন্য সব ব্যাংকের কাজের চাপও লাঘব হতো।

প্রিয়লাল রায় জানিয়েছেন, পুরানবাজারে সরকারি কোনো ব্যাংক নেই। কটিয়াদী সদরে সরকারি ব্যাংকের মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও কৃষি ব্যাংকের শাখা আছে। তাও গ্রহকদের জন্য আধার কিলোমিটার বা তার চেয়েও দূরে হয়ে যায়। ন্যাশনাল ব্যাংকেরও শাখা আছে। কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে সঙ্কটে থাকায় এরা পল্লীবিদ্যুতের বিল নিচ্ছে না। এছাড়া পল্লীবিদ্যুতের অফিস প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভোগপাড়া এলাকায়। সেখানে গিয়ে বিল পরিশোধ করাও গ্রহকদের জন্য ভোগান্তির হয়ে যায়।

দেখা গেছে, ইস্টার্ন ব্যাংকের ভৈরব শাখার ব্যবস্থাপক মোস্তফা জামাল উদ্দিন ২০২২ সালের ৪ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক ও পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের উপমহাব্যবস্থাপকের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনে কটিয়াদীতে ইস্টার্ন ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় পল্লীবিদ্যুতের বিল পরিশোধের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। আবেদনটি কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয় ১০ অক্টোবর সিল-স্বাক্ষরের মাধ্যমে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত আজ পর্যন্ত দেয়া হয়নি। গ্রাহকরা দাবি জানিয়েছেন, পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ যেন ইস্টার্ন ব্যাংকে বিল জমা দানের বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। তাহলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই পাবেন।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আতিকুজ্জামান চৌধুরীকে জানান, পল্লীবিদ্যুতের প্রধান কার্যালয় থেকেই বেসরকারি ব্যাংকে বিল পরিশোধ বন্ধ রেখেছে। যে কারণে স্থানীয়ভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। গ্রাহকরা চাইলে কটিয়াদীতে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসেও বিল জমা দিতে পারেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি