image

চাকচিক্যের আড়ালে ভয়ংকর অস্বাস্থ্যকর রাকিব হোটেল: ভোক্তার অভিযানে বিশ হাজার টাকা জরিমানা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

প্রতিনিধি, মাগুরা

মাগুরা শহরের ব্যতিক্রমী খাবারের হোটেল হিসেবে ইটখোলা বাজারের ‘রাকিব হোটেল’-এর সুনাম ছিল। ভাত-তরকারিসহ দেশি খাবারের দোকান হিসেবে এটি অনেকেরই প্রিয়। কিন্তু হোটেলের পেছনের দিকে ঢুকতেই চোখে পড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র। মানুষের দৈনন্দিন খাবারের সঙ্গে যেখানে জড়িয়ে আছে সুস্থতা ও জীবনের নিরাপত্তা, সেখানে অবহেলা আর দায়িত্বহীনতার এমন দৃশ্য শুধু উদ্বেগজনকই নয়, আতঙ্কজনকও বটে।

আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে এখানে অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমন অধিকারী এবং মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।

তদারকিতে দেখা যায়, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ রং ব্যবহার করে প্রস্তুত করা হচ্ছে খাবার। একই ফ্রিজে রাখা হয়েছে রান্না করা খাবার এবং রক্ত ও জীবাণুযুক্ত কাঁচা মাছ-মাংস, যা থেকে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে মারাত্মক রোগজীবাণু। রান্নাঘরের মেঝে নোংরা; অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খোলা অবস্থায় রাখা খাদ্যদ্রব্যে ভিড় করছে মাছি। ব্যবহৃত টয়লেটে নেই সাবান বা হ্যান্ডওয়াশের ব্যবস্থা। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীরা টয়লেট ব্যবহারের পর ঠিকমতো হাত না ধুয়েই রান্নার কাজে যুক্ত হচ্ছেন।

এসব অনিয়মের দায়ে হোটেলের মালিক আব্দুর রাজ্জাককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

এই অভিযান কেবল একটি হোটেলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়; এটি জনস্বাস্থ্যের পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। খাদ্য শুধু পেট ভরানোর উপকরণ নয়, এটি মানুষের জীবন ও সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই সচেতনতা, নিয়ম মেনে চলা এবং মানবিক দায়িত্ববোধ—এই তিনটির সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ খাদ্য সংস্কৃতি।

রূপক আইচ/এসএএম

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» মহেশপুরে ইউপি চেয়ারম্যান নান্টুর ইন্তেকাল

সম্প্রতি