নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাজুড়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে একাধিক মিনি পেট্রোল বিক্রয়কেন্দ্র। লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই দাহ্য পদার্থ পেট্রোল-অকটেন সংরক্ষণ ও বিক্রি করায় জনমনে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হলেও কার্যত বন্ধ হয়নি ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্যবসা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে দোকানের সামনে খোলা ড্রাম, প্লাস্টিকের কন্টেইনার ও অনিরাপদ মিনি ডিসপেন্সার মেশিনে পেট্রোল মজুত রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে অগ্নিকা-, বিস্ফোরণ এবং বিষাক্ত বাষ্প ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ভেন্টিলেশন ও নিরাপদ সংরক্ষণ পদ্ধতি ছাড়া এ ধরনের জ্বালানি বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেট্রোলের বাষ্প অত্যন্ত দাহ্য ও বিষাক্ত। দীর্ঘসময় এর সংস্পর্শে থাকলে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, ত্বক ও চোখে জ্বালাপোড়া, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের জটিলতাও তৈরি হতে পারে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানি মজুদ থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যার ক্ষতি হবে অপূরণীয়।
জানা গেছে, বর্তমানে এ উপজেলার শতাধিক অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্প জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার পাশে ও লোকালয়ের জন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে। সে কারণে অতীতে অভিযানে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল-অকটেন ও ব্যবহৃত মিনি ডিসপেন্সার জব্দ করা হলেও রহস্যজনক কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া অনেক কেন্দ্র আবার চালু হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- কারা এ অবৈধ ব্যবসার পেছনে মদদ দিচ্ছে?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশে এভাবে দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ সম্পূর্ণ অনিরাপদ। সচেতন মহল দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। নিয়মিত তদারকি, কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মত তাদের।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ডিমলা উপজেলাবাসী যেকোনো সময় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড বা বিস্ফোরণের মুখোমুখি হতে পারে এমন আশঙ্কাই এখন সর্বত্র।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক নায়েরুজ্জামান জানান, বিষয়টি ইতোপূর্বে আমার দৃষ্টি বছর হয়েছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে টানা পোড়নের কারণে অবৈধ মিমি পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্প ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তৎসহ অবৈধ মিনি পেট্রোল পাম্প গুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।