এক সময়ের খরস্রোতা বটিয়াঘাটা নদী কালের বিবর্তনে এখন মরা খাল। কচুরিপানা এর গতিকে একদিকে যেমন রুদ্ধ করেছে, তেমনই দুপাশের বাসিন্দাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছ। গত তিন মাস আগে খালের কচুরিপানা পরিষ্কারে লোকজ নামে একটা এনজিও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
সাবেক বটিয়াঘাটার ইউএনও বতমানে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান বিদেশি সংগঠনের অনদানে প্রায় ৪ লাখ টাকা এনে লোকজ এনজিওকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেন। লোকজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সমন্বয়ে বটিয়াঘাটা সদরের স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশ থেকে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। কিন্তু প্রচন্ড শীত থাকায় এবং কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী কাচে পা কেটে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ঠান্ডায় পানিতে আড়ষ্ট হয়ে পড়ায় মূলত কাজ এগুয়নি। শুধু খাওয়া-দাওয়াটা হয়। ফলে কচুরিপানা পরিষ্কার নিয়ে জনগণের বহুদিনের আশা ব্যর্থ হয়। বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরের কাজীবাছা নদী থেকে সালতা নদী পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার ব্যাপী এই খালের সবটাই কচুরিপানার রাজত্ব। কোথাও পাঁচ হাত জায়গা খালি নেই। দীর্ঘদিন ধরে খাল সংস্কার না করায় অনেক স্থানে ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনে অসুবিধা হচ্ছে এবং শুষ্ক মৌসুমে বহু স্থান শুকিয়ে যাওয়ায় চাষিরা ক্ষেতে পানি সেচ করতে পারছে না। এ কারণে খরার সময় খালে পানি না থাকায় এবং পানির অন্য কোন উপায় না থাকায় ক্ষেতের ফসল চোখের সামনেই শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কৃষি দপ্তর বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার আবু বকর সিদ্দিকের কাছে আমাদের প্রতিনিধি জানতে চাইলে তিনি জানান, এব্যাপারে সম্প্রতি উপজেলায় অনুষ্ঠিত পানি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের সঙ্গে এক বৈঠকে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ২৭টি স্লুইস গেট সংস্কার, খড়িয়া ও
বটিয়াঘাটা খাল পুনঃখননের দাবিসহ শোলমারী নদী পুনঃখখনের দাবি জানান হয়। তিনি বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন। জনগণের দাবি যত দ্রুত সম্ভব এ সব প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করা দরকার।