চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা এওচিয়া নলুয়া ইউনিয়নে রাতের আঁধারে অবাধে কাটা হচ্ছে কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল ও পাহাড়ি মাটি। এতে দ্রুত নষ্ট হচ্ছে আবাদি জমি ও পাহাড়ি বনাঞ্চল। স্থানীয়দের অভিযোগ, এওচিয়া চনখোলা এলাকা ও নলুয়া ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ কিছু মাটি খেকো চক্র প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে ডাম্পার ও এক্সকাভেটর নিয়ে এসে কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি, পাহাড়ি মাটি ও গাছ কেটে নেয়া হচ্ছে। কেউ বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। কাটা মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে এলাকায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলোতে। পাশাপাশি পাহাড়ি গাছ পুড়িয়ে ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে মাটি কাটা চলছে। গত ১৭ বছর ধরে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এ কার্যক্রম চললেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে পারেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরও একইভাবে মাটি কাটা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, রাত্রীকালীন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বলেন- নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২০টি এক্সকাভেটর ও ১০টি ডাম্পার অচল করে দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, অবৈধ মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মাঝে অভিযান হলেও প্রভাবশালীদের কারণে স্থায়ীভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা যাচ্ছে না।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কৃষিজমির টপসয়েল একবার কেটে নিলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব। পাহাড় কাটা হলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি জনজীবনও হুমকির মুখে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, নিয়মিত অভিযান জোরদার, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অন্যথায় সাতকানিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যার প্রভাব পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর।