image
মুন্সীগঞ্জ (গজারিয়া): এক সময়ের খরস্রোতা কাজলা নদী এখন মৃতপ্রায় -সংবাদ

খরস্রোতা কাজলা এখন মজাখাল ব্যাহত নৌযান চলাচল

প্রতিনিধি, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এক সময়ের খরস্রোতা কাজলা নদী আজ মৃতপ্রায় খালে পরিণত হয়েছে।

কাক চক্ষু, টলটলে পানি ভরা প্রবাহিনী এই নদী ছিল স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম অবলম্বন। মাছ শিকার, নৌপথে যাতায়াত, কৃষিকাজ ও পানির নিত্য ব্যবহার্য কাজসহ সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে ছিল নদীটির অস্তিত্ব।

নদীর পাড়ের বাসিন্দা ও ভুক্তভেগী স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেঘনা-গোমতী নদীর শাখা নদীটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা-লম্বি আনুমানিক ৭ কিলোমিটার ব্যাপী বিস্তৃত।

বাউশিয়া ইউনিয়নের উত্তর-পূর্ব প্রান্ত মনাইরকান্দি হতে কাজলা নদী পুরান মনারকান্দি, টেকপাড়া, পুরান বাউশিয়া, বক্তারকান্দি, পোড়াচক বাউশিয়া, চর কুমারিয়া গ্রাম অতিক্রম করে পুনরায় মেঘনা নদীতে মিলিত হয়েছে। এক সময়ে শুষ্ক মৌসুমেও নদীটি কানায় কানায় পানিপূর্ণ থাকত। প্রতি বছর এখান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার দেশীয় মাছ আহরণ করতো স্থানীয়রা। নদীপথই ছিল এলাকাবাসীর প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম এবং জীবিকার অন্যতম অবলম্বন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরান বাউশিয়া থেকে চর কুমারিয়া পর্যন্ত কাজলা নদীর পানিপ্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময়ের স্বাভাবিক স্রোতের কাজলা নদীর পানির ধারা ধীরে ধীরে কমে গিয়ে নদীটি শীর্ণ ও স্থবির খালে পরিণত হয়েছে। নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কল-কারখানার তরল বর্জ্য, বাসাবাড়ির গৃহস্থালি ময়লা ও আবর্জনা অবাধে ফেলার কারণে পানির প্রাকৃতিক ধারা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়াসহ পানি দূষণে হয়ে পড়েছে ব্যবহার অনুপযোগী, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

পুরান বাউশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোতালেব সরকার বলেন, একসময় কাজলার বুক চিরে বড় বড় নৌকা পাটবোঝাই করে বিভিন্ন মোকামে যেত। নদীপথই ছিল প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। কল-কারখানার তরল বর্জ্য, বাসা-বাড়ির গৃহস্থালি ময়লা ও আবর্জনা অবাধে ফেলার কারণে নদী শেষ করে ফেলেছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা এম এ আজহার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, কাজলা নদীপথে বিভিন্ন জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ হতো। ইংরেজ বণিকরাও এই পথ ব্যবহার করতেন বলে শুনেছি। নদীর তীরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ঐতিহাসিক বাউশিয়া নীল কুঠি পাড়া। সেচের পানির অন্যতম উৎস ছিল এই নদী। দেশীয় মাছ পাওয়া যেত প্রচুর। এখন সবই ইতিহাস।

প্রবীণ সাংবাদিক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুনর্খনন না হওয়ায় নদীটি মৃতপ্রায়। দখলদারদের উচ্ছেদ করে দ্রুত পুনর্খনন না করলে কাজলা পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে জরিপ পরিচালনা, দখলমুক্তকরণ এবং টেকসই পুনর্খননের মাধ্যমে কাজলা নদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হোক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, কাজলা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। শিগগিরই সরেজমিন পরিদর্শন করে দখলদারদের চিহ্নিত করা হবে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং পুনর্খননের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» রমজানের আগে নওগাঁয় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে ক্রেতারা

» রমজানের আগে নওগাঁয় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ভোগান্তিতে ক্রেতারা

» সিলেটে জামায়াতের ভরাডুবির নেপথ্যে

সম্প্রতি