পবিত্র রমজান উপলক্ষে বিভাগীয় নগরী রংপুরে ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা-বুটসহ বিভিন্ন সামগ্রী টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পণ্য না পেয়ে ফিরে গেছেন। ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার জন্য মধ্যবিত্ত পরিবারের নারী-পুরুষ প্রখর রোদ উপেক্ষা করে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছেন। খেজুরের মান নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে।
২শ ৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রংপুর সিটি করপোরেশনের মাত্র ১৪টি স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার থেকে ৫৯০ টাকার প্যাকেজে বিভিন্ন পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—মসুর ডাল ২ কেজি (প্রতি কেজি ৭০ টাকা), চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা, ভোজ্য তেল ১১৫ টাকা লিটার দরে ২ লিটার, ছোলা ৬০ টাকা কেজি দরে ১ কেজি এবং খেজুর ১৬০ টাকা কেজি দরে আধা কেজি ৮০ টাকা।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, টিসিবি কার্ডধারীদের কাছে ১০০ টাকা লিটার দরে ভোজ্য তেল বিক্রি করলেও ট্রাক সেলে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে চিনি ও অন্যান্য পণ্যের দামও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
টিসিবির পণ্য বিক্রির খবর পেয়ে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভোর থেকে শত শত নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। কেউ কেউ পণ্য পেলেও অনেকেই না পেয়ে ফিরে যান। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশির ভাগই মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য, যারা স্বল্প দামে পণ্য পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করছেন। তাদের অভিযোগ, চিনি ও খেজুরের মানও ভালো নয়।
রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে টিসিবির পণ্যবাহী ট্রাকের সামনে ভোর থেকে অপেক্ষায় থাকা নগরীর নুরপুর মহল্লার আকলিমা বেগম জানান, কার্ডধারীদের কাছে ভোজ্য তেল ১০০ টাকা লিটার দরে বিক্রি করা হলেও ট্রাক সেলের নামে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা করে দুই লিটারে ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে চিনি ও ছোলার দামও বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। খেজুর ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হলেও এর মান ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নগরীর নিউ সেনপাড়া মহল্লা থেকে আসা বৃদ্ধা মালতী রানী অভিযোগ করে বলেন, সকাল ৯টায় এসেছি, এখন দুপুর ১টা। এখনো ৫০ জনের পেছনে আছি, পণ্য পাব কি না জানি না। তিনি বলেন, আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, অথচ ট্রাকের সামনে লাইন না ধরেই অনেকেই পণ্য নিয়ে যাচ্ছে। এসব স্বজনপ্রীতি বন্ধ হওয়া উচিত।
এদিকে নগরীর কাছারী বাজার এলাকায় টিসিবির পণ্য বিক্রির ট্রাকের পেছনে শত শত নারী-পুরুষ দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পণ্য না পেয়ে ফিরে যান। দুপুর ৩টার দিকে অন্তত ৪০-৫০ জনকে এভাবে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মুন্সিপাড়া মহল্লার আমেনা বেগম ও মোকসেদ আলী বলেন, ট্রাক সেলের সংখ্যা আরও বাড়ানো উচিত।
প্রেসক্লাবের সামনে থাকা টিসিবির ডিলারের ম্যানেজার জানান, নগরীর ১৪টি স্থানে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ জনের কাছে ৫৯০ টাকার প্যাকেজ বিক্রি করা হচ্ছে। পণ্যের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, টিসিবির নির্ধারিত দরে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। তবে খেজুর ও চিনির মান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
সাধারণ মানুষের দাবি, ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি, মানসম্মত পণ্য সরবরাহ এবং কম দামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হোক।
লিয়াকত আলী বাদল/এসএএম
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অপোর ‘২১ এর চেতনায় ২১ টাকায় ফোন’ ক্যাম্পেইন
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: গ্রামীণফোন ও মাস্টারকার্ডের পার্টনারশিপ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের সভাপতি রাফেল কবির ও সাধারণ সম্পাদক রওশন কামাল জেমস
সারাদেশ: মোহনগঞ্জে মাচায় লাউ চাষ লাভবান কৃষক