গভীররাতে নওগাঁ ধামইরহাট জাহানপুর ইউনিয়নে আলু খেতে কুকুর জবাই করছে। পরে ওই কুকুরের মাংস বাসায় নিয়ে রাখে। সেখান থেকে সকালে বাজারে বিক্রির জন্য পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নেয়।
এমন খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাটি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ধামাইরহাট ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি করে ১৫ কেজি কুকুরের মাংস, মাংস কাটার চাকু জব্দ করেছে। মঙ্গলবার, (১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কসাই এন্তাজকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট থানাধীন মঙ্গলবাড়ি বাজারের হঠাৎপাড়া গ্রামের কসাই এন্তাজ ও মো. দুলু স্থানীয় আলু খেতে একটি ধূসর বর্ণের কুকুর জবাই করে। মাংস নিয়ে বাড়ি গেলে পার্শ¦বর্তী ঘরের বুলুন নাহারের সন্দেহ হয়।
তিনি প্রতিবেশীদের ঘটনাটি বললে তারা কসাই এন্তাজের বাড়ি তল্লাশি করে বস্তার ভিতরে মাথাসহ একটি কুকুরের চামড়া পায়। আর পার্শ্ববর্তী আলু খেতে একটি বালতিতে ১৫ কেজি কুকুরের মাংস দেখতে পায়।
এই ঘটনায় পলাতক এন্তাজ ও দুলুর বিরুদ্ধে ধামইরহাট থানায় নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা (জিডি নং ১৭) দায়ের করা হয়েছে।
ধামইরহাট থানার ডিউটি অফিসার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান সংবাদকে মুঠোফোনে জানায়, রাত দেড়টার দিকে কসাই কুকুরটিকে জবাই করেছে। পুরো ঘটনা স্থানীয় একজন নারী বাসিন্দা অনুসরণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাংস, মাথা ও চামড়া উদ্ধার করছে। ঘটনাটি থানা থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূরে।
গ্রেপ্তারকৃত এন্তাজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এর আগেও এ ভাবে কুকুর জবাই করে বিক্রি করছে কিনা তা জানা যায়নি। তবে অভিযুক্ত এন্তাজ ও দুলু এলাকার কসাই হিসাবে পরিচিত।
ধামইরহাট থানার ওসি মোখলেসুর রহমান মুঠোফোনে জানায়, কুকুর জবাইয়ের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এখনও তদন্ত পর্যায়ে আছে। একজন আইনজীবী বলেন, এ ধরনের কাজ যারা করেন, তাদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত।