image
চকরিয়া (কক্সবাজার) : ফাইতংয়ে লোকালয়ে ঢুকে বোরোধান খেত মাড়িয়ে দিয়েছে বন্যহাতির পাল -সংবাদ

পাহাড়ে খাদ্য-সংকট লোকালয়ে তান্ডব চালাচ্ছে বন্যহাতি

প্রতিনিধি, চকরিয়া (কক্সবাজার)

প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই বন্যহাতির পাল দলবেঁধে হানা দিচ্ছে চকরিয়া উপজেলার বানিয়ারছড়ার পূর্বপাশের বিভিন্ন লোকালয় এবং পাশের পাহাড়ি জনপদ ফাইতং ইউনিয়নে। রাতের আঁধারে ধান ও সবজি খেতে তান্ডব চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের ফসলি খেত। এমন পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় বসবাসরত লোকজনের মাঝে উদ্বেগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে একদল বন্যহাতির পাল হানা দিয়ে তান্ডব চালিয়েছে লামার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড খেদারবান পাড়া এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেনের বোরোধান ও রকমারি সবজি খেতে। এসময় হাতির পাল খেতে ঢুকে তান্ডব চালিয়ে পায়ের নিচে পিষ্ট করে দিয়েছে কৃষক আনোয়ার হোসেনের স্বপ্ন।

এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি সময়ে পাহাড়ি এলাকায় বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে কায়িক শ্রমের বদৌলতে পাহাড়ের কৃষকর ফলানো ফসলী খেতে বন্য হাতি তান্ডব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বন্য হাতি তান্ডবে এলাকার কৃষকের চোখে কান্নায় গড়িয়ে পড়ছে চোখের পানি।

স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন, নুরুচ্ছাফা, সাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ রাকিব,জুবাইর, মিজবাহ উদ্দীন, জসিম উদ্দিন, এখেলাস মিয়াসহ অনেকের খেতের ফসল ইতোমধ্যে বন্যহাতির তান্ডবে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, প্রতি বছর বোরোধান রোপণ মৌসুমে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে বিঘার পর বিঘা জমির ধান খেয়ে ফেলে আবার পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লামা বনবিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জ অফিসার এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রতি বছর বন্যহাতি আক্রমণে এলাকায় সাধারণ কৃষকের ফসল হানির ঘটনা ঘটছে। জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষুধার্ত বন্যহাতি দল অনেক সময় কৃষকের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ছে। এমনকি হাতির ভয়ে অনেক এলাকার মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। মশাল জ্বালিয়ে বা পাহারা দিয়েও অনেক সময় হাতি দলকে ঠেকানো যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, বন্যহাতির তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পেতে বন বিভাগের ডিএফও কার্যালয়ে আবেদন করলে নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ বলেন, পাহাড়ি জনপদে হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে সবকিছুর আগে বনের জায়গা জবরদখল চেষ্টা রোধ করতে হবে। তারপর বনের ভেতর হাতির খাদ্য হিসেবে পর্যাপ্ত গাছ লাগাতে হবে। মূলত বনাঞ্চলে খাদ্য-সংকটের কারণে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি