image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সৈয়দপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জিরো টলারেন্স

প্রতিনিধি, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

মাদকের নীল ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে সৈয়দপুরসহ নীলফামারী জেলার ৬ উপজেলায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়।

জনবল সংকট থাকা সত্বেও অব্যাহত আছে অভিযান। দফায় দফায় অভিযান চলায় মাদক কারবারিরা বর্তমানে আতংকে রয়েছ বলে একাধিক সূত্রে খবর মিলেছে। তবে মাদক কারবারিরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে। মাদক ব্যবসা চলছে এখন মোবাইল ফোনে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাদক কারবারিরা তাদের ব্যবসা শহর থেকে গ্রামে নিয়ে গেছে। কারণ হিসাবে তারা জানায়, মাদক বিরোধী অভিযানে অংশ নেয়া আভিযানিক দল গ্রামে প্রবেশ করলে দূর থেকে বোঝা যায়। গ্রামে শহরের চেয়ে ঘনবসতি কম থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যে কেউ প্রবেশ করলে সহসাই বোঝা সম্ভব। শহরে ঘনবসতি থাকায় বুঝে ওঠা কষ্টকর হয়। ফলে মাদক কারবারীরা তাদের ব্যবসা নির্ভার করতে গ্রামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। শহরের মাদকসেবীরা গ্রামের মাদক কারবারিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে। এরপর ঠিকানামত মাদক পৌঁছে যায় মাদকসেবীদের হাতে। এজন্য মাদক ব্যবসায়ী ও খোররা ব্যবহার করে কোডওয়ার্ড। মাদকের লেনদেনে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগায় মাদকের বিস্তার রোধে হিমশিম খাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। তারপরেও চলছে অভিযান। ধরা পড়ছে মাদক কারবারিরা। উদ্ধার হচ্ছে মাদকদ্রব্য ও নগদ অর্থ এবং যোগাযোগের মাধ্যমে মোবাইল সেট।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের দেয়া তথ্যমতে, বিগত ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৫ সালে মাদকবিরোধী অভিযান দ্বিগুণ হওয়ায় মাদক কারবারিরা এবং মাদকসেবীরা বেকায়দায় পড়ে গেছে। ফলে পূর্বের তুলনায় সিকিভাগ মাদক বেচাকেনা কমে গেছে। সেই হিসাবে গত ২০২৪ সালে এক হাজার ২৭টি অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উদ্ধার করা হয় এক হাজার ৮৭৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০৪ বোতল ফেনসিডিল, ২৮ কেজি গাঁজা, ২১ হাজার ১০৬ পিস টাপেন্ডাল ট্যাবলেট, ৩৯ গ্রাম হেরোইন, বিদেশি মদ ৮ বোতল, চোলাই মাদ ২১ লিটার, মাদক বেচাকেনায় ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল সেট এবং নগদ ১০ হাজার ৩০০ টাকা। ওই বছর মামলা হয় ২০২টি। এসব মামলায় প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করা হয় ২২২ জনকে।

এদিকে ২০২৫ সালে ২০২৪ সালের তুলনায় ২৯৭টি অভিযান বেশি পরিচালিত হয়। এই বছরে উদ্ধারকৃত মালামালের পরিমাণও বেশি।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ৪৫০টি মাদক মামলায় আসামিভুক্ত করা হয় ৪৯৫ জনকে। আর ওই বছরের মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা ১০৯ কেজি, ইয়াবা ট্যাবলেট ছয় হাজার ৪৬০ পিস, হেরোইন ৪০ গ্রাম, এক হাজার ৬৯১ পিস টাপেন্ডাল ট্যাবলেট, ১১২ বোতল ফেনসিডিল, চোলাই মদ ৭০ লিটার, তাড়ী ৫৩ লিটার, মাদকদ্রব্য বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজি, বেচাকেনার মাধ্যম মোবাইল সেট ৫টি এবং নগদ অর্থ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

জানতে চাইলে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খাঁন সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের অভিযানের সঙ্গে সঙ্গে মাদকের কুফল সম্পর্কে বেশি বেশি সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এতে আরো সফলতা মিলবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি