image
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) : ইটভাটায় মাটির জোগান দিতে ব্যস্ত দালালরা -সংবাদ

ত্রিশালে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়

প্রতিনিধি, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

ইট তৈরি ও পোড়ানোর উপযুক্ত সময় শুকনো মৌসুম। তাই ভাটাগুলোতে বিরাজ করে কর্মচাঞ্চল্য পরিবেশ। টার্গেট পূরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করেন ভাটা মালিক ও শ্রমিকরা। ত্রিশালের ৫৮টি ইটভাটায় মাটির জোগান দিতে ব্যস্ত দালালরা। ভাটা মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করে স্থানীয় দালালদের মাঝে মাটি কেনাবেচার ধুম পড়ে। এতে উজাড় হচ্ছে উর্বর ফসলি জমিসহ খালবিলের মাটি। জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলায় রয়েছে ৫৮টি ইটভাটা।

ছোট-বড় প্রতিটি ভাটায় গড়ে প্রতিবছর পোড়ানো হয় ৫০ লাখ ইট। এক হাজার ঘনফুট মাটিতে তৈরি হয় ১২ হাজার ইট। ওই হিসাবে ৫০ লাখ ইটের বিপরীতে প্রয়োজন চার লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ঘনফুট মাটি। ৫৮টি ভাটার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে দুই কোটি ৪১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৭ ঘনফুট মাটি। এই বিশাল মাটির জোগান দিতে শুকনো মৌসুম (শীতকালে) ব্যস্ত থাকে মাটি ব্যবসায়ী চক্রের সদস্যরা। তারা কৃষকদের টাকার লোভ দেখিয়ে প্রতিনিয়ত উজাড় করছে ফসলি জমি ও খালবিলের মাটি। দালালরা প্রতি হাজার ঘনফুট মাটি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের অভিমত, ত্রিশাল উপজেলায় মাছ চাষের উপযুক্ত পরিবেশ দেখে স্থানীয় ও বহিরাগত ব্যবসায়ীদের মাঝে বাড়ছে মাছ চাষের উৎসাহ। আগে মাছ চাষের ঘের তৈরি করতে মাটি কেটে শুধু পাড় বাঁধা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মাটি ব্যবসায়ী চক্রের দৌরাত্ম্যের ফলে মাছের ঘের খননের নামেও খালবিল ও ফসলি জমির মাটি বিক্রি হচ্ছে দেদারছে।

ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে জেলা প্রশাসকের অনুমোদনক্রমে মজা পুকুর, খালবিল, খাঁড়ি, দিঘি, নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়, চরাঞ্চল বা পতিত জায়গা থেকে মাটি সংগ্রহের নির্দেশনা আছে। আইনে আছে, যদি কোনো ব্যক্তি বিধান লঙ্ঘন করে কৃষিজমি, পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি অনধিক দুই বছরের কারাদ- বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন। কিন্তু ইটভাটা নিয়ন্ত্রণের আইন বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষের তৎপর না থাকায় ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে ফসলি জমি এবং হুমকির মুখে পড়ছে খাদ্য উৎপাদন।

বালিপাড়া ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রায়ানার বিলে ভেকু দিয়ে মাটি খুঁড়ে তুলে দেওয়া হচ্ছে ট্রাকে। বিলের পাশেই কয়েকটি ফসলি জমিতেও ভেকু দিয়ে ট্রাকে মাটি তোলা হচ্ছে। একই অবস্থা হরিরামপুর ইউনিয়নের হারবার চর ও বইলর ইউনিয়নের আংড়ার বিল, বিলবোকা বিলসহ তেঁতুলিয়া গ্রামের।বাহাদুরপুরের মাটির দালাল বাদলের সঙ্গে কথা হলে প্রথমে তিনি মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তাকে ভেকু চালক ও কৃষকদের স্বীকারোক্তির কথা জানালে, তিনি বলেন, ‘এত কিছু আপনার বুঝার বা জানার দরকার নাই, আপনে একসময় আইসা দেখা করেন, আপনার বিষয়টা দেখমু নে।’

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, কৃষি বা ফসলি জমির মাটি কাটা এবং ইটভাটায় ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এটি দ-নীয় অপরাধ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি