শাহজাদপুরে মালচিং পদ্ধতিতে শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক হওয়ায় মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন উপজেলার কৃষকেরা। লাভজনক এই পদ্ধতিতে কৃষকেরা স্কোয়াস, টমেটো, বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচসহ শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন। ভালো ফলন ও বাজারে দাম ভালো পাওয়ায় মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ এলাকায় ক্রমশই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ।
জানা গেছে, মালচিং পদ্ধতিতে প্রথমে কৃষি জমি চাষ দিয়ে জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করে বেড তৈরি করা হয় । পরে পলি মালচিং শিট দিয়ে ওই বেড ঢেকে দেয়া হয়। এরপর নির্দিষ্ট দূরত্বে মালচিং পেপার ফুটো করে বিভিন্ন সবজির চারা রোপণ করা হয়। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের ক্ষেত্রে আগাছা, রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক অনেক কম হয়। এছাড়া মালচিং পদ্ধতিতে চাষের ফলে জমির আর্দ্রতা ১০% থেকে ২৫% সংরক্ষিত হয়। তাই এ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচও অনেক কম হয়। উপজেলার রুপবাটি, নরিনা, গাড়াদহ, খুকনী, পোতাজিয়া, গালা, কৈজুরী ও সোনাতনী ইউনিয়নের কৃষকরা এই পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ করছেন। উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম জানান, তারা ২ বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১০০ মণ টমেটো উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত টমেটো বিক্রি করে তারা জনপ্রতি ৮০ হাজার টাকা করে আয় করেছেন। রূপবাটি ইউনিয়নের বড়ধুনাইল গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান ও কৃষক নান্নু মিয়া জানান, কৃষি অফিসে পরামর্শে তারা মালচিং পদ্ধতিতে দুই বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতি বিঘা জমির স্কোয়াস বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছেন। জালালপুর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক আল আমিন জানান, তিনি ২৫ শতক জমিতে , পৌর এলাকার বাড়াবিল গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম ৩০ শতক জমিতে এবং নরিনা ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে তাল জাতের উন্নত মানের বেগুন চাষ করেছেন। অন্যদিকে খুকনি ইউনিয়নের আরকান্দি গ্রামের কৃষক আজহার আলী ২৫ শতক জমিতে ঝিলিক জাতের কাঁচামরিচ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, মার্চ মাসের শেষের দিকে ফলন পাওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, ৮ থেকে ১০ দিন পর পর চার কিস্তিতে ফলন তোলা হবে। এতে তার জমি থেকে ২০ থেকে ২৫ মণ কাঁচামরিচ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করেন। এছাড়াও রূপবাটি ইউনিয়নের সওদাপাড়া গ্রামের কৃষক সোহেল রানা জানান, তিনি প্রায় এক বিঘা জমিতে শসা? চাষ করেছেন। কৃষকেরা জানান, মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে একদিকে ফলন ভালো পাওয়া যায়। অন্যদিকে ভালো দাম পাওয়ায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চলতি বছর উপজেলায় ৪ হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ একটি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মাটিতে আর্দ্রতা ২৫% পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। ফলে সেচ খরচ এক-চতুর্থাংশ কমে যায়।
এছাড়াও এই পদ্ধতিতে জমিতে আগাছা সৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচ কম হয়। অন্যদিকে ফলন ভালো হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। তিনি আরো বলেন, উপজেলার বেশির ভাগ জমিতে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন যেসব জমি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেসব জমিতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, মালচিং (বিশেষ এক ধরনের পলিথিন)সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদে কারগরি সহায়তার ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে এলাকার কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক: আইএস শিবির থেকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক: সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: মিডরেঞ্জের বাজারে গুরুত্ব পাচ্ছে ইনফিনিক্স নোট এজ