চকরিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী তামাক চাষের বদলে জনপ্রিয় হচ্ছে লাভজনক তরমুজ চাষ
শুরু হয়েছে মুসলমানদের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব পবিত্র মাহে রমজান। আর রমজান মাসে মুখরোচক রসালো ইফতার হিসেবে রোজাদারদের তৃষ্ণা মেটাতে স্থানীয় বাজারে আসছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর বালুচরে প্রথমবারের মতো উৎপাদিত হাইব্রিড এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ।
মাতামুহুরী নদীর তীরের উর্বর জমিতে তরমুজ চাষের অমিত সম্ভাবনা পরিদর্শন করে এই রমজান মাসে উৎপাদিত সুস্বাদু তরমুজ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ বীজের বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের মেসার্স শহীদ এগ্রোফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তিনমাস আগে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের কামালউদ্দিন মাস্টারঘাটা এলাকায় মাতামুহুরী নদীর চরে প্রথমবারের মতো হাইব্রিড এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ চাষের সুচনা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক নুরুল কবির
এবছর পরিবেশ বিধংসী তামাক চাষের বদলে অধিক লাভজনক ফসল তরমুজ চাষ শুরু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারি বীজ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অনুমোদনপ্রাপ্ত শহীদ এগ্রোফার্মের আমদানিকৃত উন্নতমানের উচ্চফলনশীল হাইব্রিড থাই সুপার ও এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ চাষে সারাদেশ জুড়ে সুখ্যাতি রয়েছে।
তিনি বলেন, বীজের গুনগতমান অধিক ভালো এবং যেকোনো এলাকার আবহাওয়া উপযোগী হওয়ার কারণে দেশের প্রভৃতি অঞ্চলে হাইব্রিড থাই সুপার জাতের তরমুজ চাষে ব্যাপক বাম্পার ফলন হচ্ছে। বিশেষ করে ভোলা ও নোয়াখালী জেলার চরাঞ্চল এখন থাই সুপার জাতের তরমুজ চাষের দখলে। তবে বেশকিছু এলাকায় অভাবনীয় ফলন পাওয়া যাচ্ছে নতুন আমদানিকৃত এশিয়াপ্লাস তরমুজ চাষে।
শহিদুল ইসলাম জানিয়েছে, গেল কয়েকবছর ধরে তাঁর প্রতিষ্ঠান কতৃক নতুন আমদানিকৃত উন্নতমানের ও উচ্চফলনশীল হাইব্রিড এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ চট্টগ্রাম দক্ষিনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাম্পার ফলনের সুবাদে কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, এই জাতের তরমুজ কক্সবাজারের বালুচরকেন্দ্রিক এলাকাগুলোতে ভালো ফলন হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুতুপালং ও লামার ইয়াংছা পাহাড়ি এলাকায় এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ চাষে কৃষকদের মাঝে ব্যাপকহারে আগ্রহ বেড়েছে।
তিনি বলেন, একসময় চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরের বালুচরে ব্যাপক তরমুজ চাষ হতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে স্থানীয় কৃষকেরা তরমুজ চাষ ছেড়ে দিয়ে অধিক লাভের আশায় পরিবেশ বিধংসী তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণায় দীর্ঘ দুইযুগের বেশি সময় পর আমি পরিচিত কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে পুনরায় অধিক লাভজনক ফসল তরমুজ চাষ শুরু করতে সহযোগিতা করি।
এরই ফলশ্রুতিতে চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর বালুচরে প্রথমবারের মতো এবছর হাইব্রিড জাতের তরমুজ চাষ করে অনেক কৃষক আশাজাগানিয়া ফলন পেয়েছে।
চলতি মৌসুমে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের কামালউদ্দিন মাস্টারঘাটা এলাকায় মাতামুহুরী নদী লাগোয়া চরের উর্বর জমিতে এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ চাষ করেছেন কৃষক নুরুল কবির। তিনি বলেন, বীজ বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শহীদ এগ্রোফার্মের কর্ণধান শহিদ ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় আমি ৬ কানি জমিতে নভেম্বর মাসের শুরুতে তরমুজ চাষ শুরু করি। জমি লাগিয়ত, সেচ খরচ ও শ্রমিক মুজুরি মিলিয়ে আমার দেড়লাখ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। ক্ষেত পরিচর্যার সুবাদে এশিয়াপ্লাস জাতের তরমুজ ৬৫ দিনের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফলন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, এই রমজান মাসে উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করা শুরু করব। আমি আশাবাদী মৌসুম শেষে ৬ কানি জমিতে আমি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে সাড়ে সাত হেক্টর জমিতে কৃষকেরা তরমুজ আবাদ হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত চাষ তদারকি এবং কৃষকদের খেত পরিচর্যার বদৌলতে প্রতিটি জমিতে তরমুজ চাষে ভালো ফলন এসেছে।
আন্তর্জাতিক: আইএস শিবির থেকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক: সাবেক ব্রিটিশ প্রিন্স অ্যান্ড্রু গ্রেপ্তার
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: মিডরেঞ্জের বাজারে গুরুত্ব পাচ্ছে ইনফিনিক্স নোট এজ