গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় অবস্থিত এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার, দোকান ভাড়া আদায় এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিন তথ্যে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গায় নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঁচটি দোকান নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকানে বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বিপরীতে নিয়মিত ভাড়া আদায় করা হলেও যথাযথ অনুমোদন ও স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি, সনদ, প্রশংসাপত্র ও জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবায় অনিয়মিতভাবে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব আদায় দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।
দোকান ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, বিদ্যালয় চত্বরে মাত্র একটি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং তার ভাড়ার অর্থ রেজুলেশন অনুযায়ী ব্যাংকে জমা রয়েছে। তবে পাঁচটি দোকানের পৃথক বিবরণ তুলে ধরলে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দোকান খালি রয়েছে, আরেকটিতে একজন তরকারি বিক্রেতা মাসিক ১,০০০ টাকা ভাড়া দেন। ওই বিক্রেতা নিজে দোকান পরিচালনা করেন নাকি অন্য কাউকে সাবলেট দিয়েছেন—এ বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
সেলুন দোকান ভাড়া প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, আগে মাসিক ভাড়া এক হাজার টাকা ছিল, বর্তমানে ১,৮০০ টাকা দেওয়া হয়। তবে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে সেলুন মালিকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সেলুনের মাসিক ভাড়া ২,৮০০ টাকা এবং এর সঙ্গে পানি ও বিদ্যুৎ বিল আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়। একইভাবে ঝালমুড়ি, ফল ও সবজি বিক্রেতারাও জানান, তারা নিয়মিতভাবে প্রধান শিক্ষকের কাছেই ভাড়া পরিশোধ করেন।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে প্রধান শিক্ষক স্বীকার করেন, দোকানগুলোতে সরকারি বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে; তবে এ জন্য কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয় কি না—এ সম্পর্কেও তিনি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
উপস্থাপিত তথ্য ও বক্তব্য বিশ্লেষণে দোকান ভাড়া আদায়, সরকারি বিদ্যুৎ–পানি ব্যবহার এবং হিসাব সংরক্ষণে স্বচ্ছতার ঘাটতি ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করে।
এদিকে জানা গেছে, তার আগের কর্মস্থল মাধবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, দপ্তরি নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নেওয়ার কথা শোনা যায়। এসব অভিযোগের পর তার বদলি হলেও তখন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অতীতে তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আমলে প্রভাবশালী পরিচয়ে দাপট দেখিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তিনি নিজেকে বিএনপির একাধিক নেতার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে পরিচয় দিচ্ছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভূইয়া সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করবেন। অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরূপণে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
নগর-মহানগর: বসন্তের আকাশ হঠাৎ অন্ধকার, মনে বিষণ্ণতার ছায়া
সারাদেশ: কুষ্টিয়ায় সড়কে ধুলোদূষণ, বাতাসে বিষ