নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে ১৮টি বসত ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রথম রোজার দিন গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্রসহ আগুনে প্রায় ৫০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকার ইসলামপুর গ্রামের জুম্মান, নুরুল আলম ও মাহিজ উদ্দিনের টিনের কলোনি ঘরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ আগুন লাগে। সেই বাড়ির ভাড়াটিয়ারা কিছু বুঝে উঠার আগেই আগুন এক ঘর থেকে অন্য ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
সোনারগাঁ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তিনটি ইউনিট দেড় ঘন্টা চেষ্টা করার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে, কিন্তু ততক্ষণে কলোনির ১৮টি ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ ভাড়াটিয়া শেফালী, কোহিনুর, খালেকসহ অনেকে জানান, তারা মেঘনা এলাকার বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কাজ করেন। আগুন লাগার সময় অনেকেই কাজে ছিলেন, অনেকে কাজ থেকে ফিরছিলেন। কোহিনুর বেগমের তিন ঘরে থাকা নগদ ৫ লক্ষাধিক টাকা, স্বর্ণ ও রুপালংকার, টিভি, ফ্রিজ, আলমারি, ফ্যান, খাট, সোফা ও অন্যান্য আসবাবপত্র সব পুড়ে গেছে। একইভাবে ছাহেরা, সালেহা, মালেক, সুজনসহ অন্যান্য ভাড়াটিয়া পরিবারও সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে গেছেন। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, ক্ষতির পরিমাণ মোটামুটি ৫০ লক্ষাধিক টাকা হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তিনটি ইউনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বেশির ভাগ ঘর পুড়ে গিয়েছিল এবং আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। তার মতে, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে। তিনজন বাড়িওয়ালার ১৮টি টিনের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, আগুনে নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এবং সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন নবনির্বাচিত স্থানীয় সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান।