image
শরণখোলা : জলদস্যুদের বেপরোয়া তা-বে সাগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে -সংবাদ

দস্যুদের তাণ্ডবের মুখে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ

প্রতিনিধি, শরণখোলা

জলদস্যুদের বেপরোয়া তাণ্ডবে সাগরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দস্যুদের নির্যাতনে আতঙ্কিত হয়ে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ কাজে নিয়োজিত ১০ সহস্রাধিক জেলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছে। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় শুঁটকি প্রক্রিয়া বাবদ বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে জানান, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতঙ্কে দুবলা শুঁটকি পল্লীতে অবস্থানরত দশ সহস্রাধিক জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বাধ্য হয়ে চরে অবস্থান করে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে।

২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিল। জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সুন্দরবনে দস্যুরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সভাপতি জানিয়েছেন।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিল- ‘জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ’ এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘সাগরে গেলে ডাকাত’। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দুদিনেও ওই ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে মোতাসিম ফরাজী জানান।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের স্টেশন অফিস থেকে কোন জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না, যে কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে ওই স্টেশন কর্মকর্তা জানান।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় সাধ্যমতো কাজ করছেন বলে এসিএফ জানান।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» আধুনিকতা ও প্রমিতকরণের দাপটে বিপন্ন উত্তরের লোকভাষা

সম্প্রতি