আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জে গাছে গাছে ছেয়ে গেছে আমের মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সব গাছেই ধরেছে প্রচুর মুকুল। মুকুলে ভরা ডালপালা দোল খাচ্ছে বসন্তের বাতাসে। স্বর্ণালি মুকুলে ভরা ডালপালার দিকে তাকিয়ে এখন স্বপ্ন বুনছেন হাজারো আমচাষি। এদিকে, বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগানমালিক ও আমচাষিরা। ইতোমধ্যে পাইকারী ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও শুরু হয়েছে বাগানগুলোতে। আগাম দরদাম নিয়েও চলছে আলোচনা। ফলে চাষিদের মুখে ফুটেছে হাসি। বাগানমালিকরা জানান, আম চাষ লাভজনক মৌসুমি ব্যবসা হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়ছে আমবাগানের সংখ্যা। বিশেষ করে জেলার বিখ্যাত ল্যাংড়া আম, হিমসাগর আম, আ¤্রপালি ও ফজলি আম এই জাতগুলোর চাহিদা দেশজুড়ে ব্যাপক। স্বাদ ও ঘ্রাণে অতুলনীয় এসব আম বদলে দিয়েছে অনেক চাষির জীবনমান। কানসাট এলাকার আমচাষি আব্দুল কাদের জানান, গত বছর প্রায় ১৫ বিঘার আমবাগান থেকে ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর মুকুল আরও বেশি এসেছে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও জৈব বালাইনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছরও ভালো ফলনের আশা করা যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে প্রতি হেক্টরে সন্তোষজনক ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, গাছের সঠিক পরিচর্যা, সময়মতো এবং মুকুল ঝরা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাষিদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তারা আরও বলেন, দেশের চাহিদা মিটিয়ে এবারও বিদেশে আম রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, এবার ছোট-বড় সবমিলিয়ে গাছে ব্যাপক পরিমাণ মুকুল এসেছে। বাগানিরা ও চাষিরা দক্ষ হওয়ায় সঠিক পরিচর্যা করছেন এবং উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও কম। এ পর্যন্ত ৭৫ ভাগ মুকুল এসেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলনের সম্ভাবনা ভালো হবে।
অর্থ-বাণিজ্য: বিনিয়োগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি এফআইসিসিআই’র