রোজা উপলক্ষে সিরাজগঞ্জের কালিয়া গ্রামের মুড়ি ভাজার কর্মীরা ব্যস্ত পার করছে। এমন পরিস্থিতি যে তাদের এখন দম ফেলার সময় নেই। রোজার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে বলে তারা জানান। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুড়ি ভাজার কাজ চলছে। প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রাহকরা এসে মুড়ি ভেজে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত ছাড়াও অনেক ব্যবসায়ীরা এসে তাদের কাছে মুড়ি ভেজে নেয় বলে জানা গেছে। প্রতি কেজি চালের মুড়ি ভাজতে মজুরি নেয়া হয় ৩০ টাকা। যারা বেশি পরিমাণ মুড়ি ভাজেন তারা ২/১ দিন আগে থেকে জানান। এখানকার মুড়িতে ক্ষতিকারক কোনো কিছু ব্যবহার করা হয় না বলে জেলাজুড়ে কালিয়া গ্রামের মুড়ির চাহিদা রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা এসে মুড়ি ভেজে নিয়ে যায়।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১ থেকে ২ মণ চালের মুড়ি ভাজা হয় বলে জানান অনিকা সাহা। তিনি জানান সারা বছরই কম-বেশি ব্যস্ততা থাকলেও রোজার সময় আমাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এই সময় রাত-দিন কাজ করি। মানুষ এসেই তাড়াহুড়া করে মুড়ি ভেজে দেয়ার জন্য। আর এজন্য অনেকেই আমরা ঘুম থেকে উঠার আগেই বাড়ির গেটে এসে বসে থাকে।
অন্য কারিগর শান্তা রানী সাহা বলেন, মুড়ি ভেজে আমাদের পরিবারে সচ্ছলতা এসেছে। আমরা এক যুগ ধরে এই ব্যবসা করছি। এই মড়ি ভাজা থেকে যে টাকা পাই তা দিয়ে আমাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচসহ সাংসারিক খরচ করে থাকি। তিনি আরও জানান, এক সময় আমাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হতো। পরে এই কাজ শুরু করার পর আমাদের সংসারের অভাব দূর হয়েছে। পুরুষের পাশপাশি আমরা মেয়েরাও আয় করছি। বাড়ি-ঘর পাকা করেছি আর্থিক যে সংকট ছিল তাও দূর হয়েছে।
মুড়ি ভাজতে আসা আবুল হোসেন বলেন, আমি সকালে ২০ কেজি চাল নিয়ে এসেছি মুড়ি ভাজতে। রোজায় নিজেদের পাশপাশি মেয়ের শ্বশুরবাড়িসহ আত্মীয়-স্বজনদেরকে দিতে হবে। তিনি জানান, প্রতি কেজি চালে মুড়ি ভাজতে মজুরি হিসেবে ৩০ টাকা দিতে হয়।
এখানকার মুড়ি ভাজা ভালো হয়, তাই প্রতি বছরই রোজার মধ্যে এখান থেকে মড়ি ভেজে নেন তিনি। সিরাজগঞ্জ শহরের রায়পুর মহল্লার আব্দুস ছামাদ বলেন, বাজারে যে মুড়ি পাওয়া যায়, তাতে নানা কেমিক্যাল মিশানো হয়- যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এখানে এরা আমাদের সামনেই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মুড়ি ভেজে দিচ্ছে। এতে আমাদের মনে এই তৃপ্তি যে ভালো জিনিস আমরা খেতে পাচ্ছি।
অর্থ-বাণিজ্য: বিনিয়োগ বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি এফআইসিসিআই’র