ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং জেলা কারাগারে আটক ১৮ বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার জিকরুল হাসান ফাহাদের উদ্যোগে তাদের জন্য ট্রাভেল পারমিট জারি করা হয়েছে।
সহকারী হাইকমিশনার জিকরুল হাসান ফাহাদ জানান, গত ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি ও হাইকমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা শিলং সফর করেন। ওই সফরে শিলং জেলা কারাগারে থাকা ৭০ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি এবং শিলংয়ের বালক ও বালিকা বিশেষ হোমে আটক ১২ শিশুর তথ্য যাচাই করা হয়।
পরিদর্শনকালে সহকারী হাইকমিশনার শিলং জেলা ও সেশন জজ এবং জেলা লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির চেয়ারম্যান ডি.আর. খারবটেং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং মেঘালয়ের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন বাংলাদেশিদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানান।
এ সময় আটক বাংলাদেশিরা যাতে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন, সেজন্য তিনি তাদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অডিও ও ভিডিও কলের ব্যবস্থা করে দেন।
সাক্ষাৎ ও তথ্য যাচাই শেষে ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ১৮ জন আটকের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের কাছে ১৮টি ট্রাভেল পারমিট হস্তান্তর করা হয়েছে।
ট্রাভেল পারমিট প্রাপ্তরা হলেন— মো. আলী নূর (পিতা- মো. আলী হোসেন), সুবেল মিয়া (পিতা- মো. জয়নাল), রনি বড়য় (পিতা- রঞ্জিত চন্দ্র রায়), জোনি বড়য় (পিতা- রঞ্জিত চন্দ্র বড়য়), মো. রুবেল (পিতা- স্ব. ইউনুস মিয়া), সুমি (মাতা- স্ব. ইউনুস মিয়া), মাহিনুর আখতার (পিতা- আবুল কালাম), মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (পিতা- মো. ফজর আলী মিয়া), মো. সাগর (পিতা- মো. ইউনুস আলী), হুসেইন মিয়া (পিতা- মো. উকিল আলী), মো. রুবেল (পিতা- স্ব. আবদুর নূর), মো. শিমা আখতার (পিতা- আলজাব মিয়া), মো. হাবিবুর রহমান (পিতা- মো. খায়রুল), মো. মিজান আলী (পিতা- মো. মুঞ্জুর আলী), মো. আল আমিন (পিতা- জাহাঙ্গীর হাওলাদার), মনোজেত মেরদা (পিতা- বিমল মেরদা), প্রিয়াঙ্কা (পিতা- মনোজেত মেরদা) ও হৃদয় মিয়া (পিতা- মো. আকমাল হোসেন)।
ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে এ ১৮ বাংলাদেশি নাগরিককে দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।
সহকারী হাইকমিশনার বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের কার্যালয়গুলোকে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।