image

মেয়ে জামাইকে নিয়ে ঘরে ফেরা হলো না দুই শাশুড়ির

জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া সদরের খাজানগর এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা খাতুন। তিনি তার মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন রাজশাহীর বাঘা থানার চকরাজাপুরে। মেয়ে জামাইকে বাড়ি আনতে তার সতীন কমেলা খাতুনকে সঙ্গে করে ঘটনার আগে গিয়েছিলেন চকরাজাপুরে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেয়ে জামাইকে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে খাজানগরে ফিরছিলেন আমেন ও কমেলা। ফেরার পথে কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে কুষ্টিয়া স্টোর পেট্রল পাম্পের সামনে এলে দুর্ঘটনার শিকার হন।

গ্যাস সিলিন্ডারবাহী দ্রুতগামী ট্রাক তাদের বহনকারী ও অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও দুজন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে যাত্রীবোঝাই অটোরিকশা কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় বাইপাস সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

নিহতদের মধ্যে আমেনা খাতুন (৬৫) ও কমেলা খাতুন (৬২) ছাড়াও রয়েছে আমেনা খাতুনের মেয়ের জামাই। এছাড়া অটোরিকশাচালক জাকারিয়া (৪০) ও একই এলাকার আশরাফুল (৪৫) ও তার স্ত্রী শিরিনা (৩০) নিহত হন। এদের মধ্যে জাকারিয়ার বাড়ি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর এলাকায়।

হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ওবায়েদ টনা বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন হাসপাতালে গিয়ে নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তরের নির্দেশ দেন। তিনি প্রত্যেক নিহতের পরিবারের জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি