image
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : সুন্দরগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগার -সংবাদ

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছরেও চালু হয়নি পৌর পানি শোধনাগার

প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও চালু হয়নি সুন্দরগঞ্জ পৌর পানি শোধনাগারটি। ২০২৪ সালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে পৌরসভাকে পানি শোধনাগারটি হস্তান্তর করেন। কেন আজও চালু হয়নি, তার কোনো সদুত্তর জানা নেই পৌরবাসীর। যার কারণে সুপেয় পানীয় জল সংকটে পৌরবাসী। শোধনাগারটির সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দাবি, ছয় লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি এবং পৌর ড্রেন নির্মাণের সময় কেটে যাওয়া পাইপ সংস্কার না করার কারণে এটি চালু করা সম্ভাব হচ্ছে না।

পৌর সভার ৮নং ওয়ার্ডের সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০ হাজার টাকা খরচ করে ১৯০ ফুট পর্যন্ত পাইপ বসানোর পরও নলকুপের পানি আয়রন মুক্ত হয় না। সে কারণে আয়রনযুক্ত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ২০২০ সাল থেকে শুনে আসছি পৌর সভায় পানি শোধনাগার নির্মাণ হচ্ছে। এটি চালু হয়ে গেলে সুপেয় পানির অভাব আর থাকবে না। কিন্তু নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার দুই বছর পরও চালু হয়নি পৌর পানি শোধনাগারটি। যার কারণে পৌরবাসী পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগছেন। তার দাবি ২২ বছর ধরে পৌরবাসী নাগরিক সেবা ময়লা আর্বজনা, লাইটিং, রাস্তাঘাট, ড্রেনেস ব্যবস্থাপনা এমনকি সুপেয় পানি সরবরাহ হতে বঞ্চিত রয়েছে।

২০০৩ সালে স্থাপিত হয় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা। নানাবিধ কারণে আজ পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত হতে পারেনি। সে কারণে পৌরবাসী নাগরিক সেবা হতে অনেকটা বঞ্চিত রয়েছে। পৌরবাসীর কর ছাড়া পৌরসভা অচল। আবার পৌরসেবা প্রদান না করলে কর দিচ্ছে না পৌর নাগরিকরা বলেন সাবেক কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান হাবিব। তার দাবি নির্বাচিত মেয়র ছাড়া পৌরসভার উন্নয়ন সম্ভাব নয়।

পৌরসভার আরেক নাগরিক জাফর আলী সরকার অক্ষেপ করে বলেন, নামে মাত্র এটি পৌরসভা। পৌর নাগরিকদের একটি সেবা আজও নিশ্চিত হয়নি। বিগত ২২ বছরের পানীয় জলের সংকট দুর করতে পারেনি পৌরসভা। সে কারণে পৌরবাসী সুপেয় পানির অভাবে ভুগছে। পানি সরবরাহের অভাবে পাবলিক টয়েলেট, মসজিদ, মন্দির, হাট-বাজার, বাসষ্টান্ডে সুবিধাভোগি মানুষজন নানাবিধ কষ্ট করে আসছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর হতে সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে পৌরসভার পূর্ব বাইপাস মোড়ে ৩৪ শতক জমির ওপর পৌর পানি শোধনাগারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৪৭৩ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ হচ্ছে। ২০০ ঘন মিটার/ঘণ্টা ক্ষমতাসম্পন্ন এই পানি শোধনাগারটি নির্মাণ করছেন এমএএস কনসোটিয়াম লিমিটেড।

উপজেলা উপসহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী খোকন রানা বলেন, পৌর পানি শোধনাগারটি চালু হলে ৬০০ পরিবার সুপেয় পানি সুবিধাভোগ করবেন। শুরুতেই ৪০০ পরিবারের চাহিদা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাড়িয়ে ৬০০ পরিবারের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল বাকি এবং পৌর ড্রেন নির্মাণে কেটে যাওয়া পাইপ সংস্কার না করায় এটি চালু করা সম্ভাব হচ্ছে না। শোধনাগারটি চালু হলে পৌরসভায় পানীয় জলের সংকট অনেকটা দূর হবে।

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলির সঙ্গে মোবাইল ফোনে বহুবার যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে তার কোনো মতামত নেয়া সম্ভাব হয়নি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি