image

বোয়ালখালীতে কৃষকদের আগ্রহে বাড়ছে সূর্যমুখীর আবাদ

প্রতিনিধি, বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম)

প্রকৃতিতে বইছে এখন বসন্ত হাওয়া। সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকে সূর্যমুখী ফুল। সকাল বেলা পূর্বদিকে তাকিয়ে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের সঙ্গে ঘুরতে থাকে। সবুজের মাঝে চোখ জুড়ানো হলুদ রঙের ঝলকানি দেখে যে কারোই মন জুড়িয়ে যায়। সূর্যমুখী যেন সূর্যের দিকেই মুখ করে থাকে। এ যেন এক চিলতে মাঠে সূর্যমুখী ফুলের দোলাচল।

জানা গেছে, সরকারি প্রণোদনায় এবং কৃষকদের আগ্রহে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে এই ফসলের চাষ হয়েছে। সেই চাষে ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ। বাগানের উপরে উড়ছে মৌমাছি আর নানানরকম পাখি। শেষ বিকেলে মৌমাছিরা সূর্যমুখী ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত। চোখ ও মন জুড়িয়ে যাওয়ার মতো এক অপরূপ দৃশ্য। এমন মুগ্ধতা ছড়ানো দৃশ্য দেখে কৃষকের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। সবুজ মাঠের মাঝখানে হলুদ রঙের সূর্যমুখী বাগানের এই মনোরম দৃশ্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক এসএম বাবরের সূর্যমুখী ফুল বাগানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

কৃষক বাবর জানান, গত দুমাস আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে সূর্যমুখী বীজ সংগ্রহ করে ১ম বারের মতো ১ একর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন তিনি। এ ছাড়া পূর্ব আমুচিয়া কৃষক জসিম উদ্দিন ৮ শতক ও পূর্ব ধোরলা গ্রামের কৃষক অজিত বড়ুয়া ৮ শতক জমিতে করেছেন সূর্যমুখী। চাষের জন্য পেয়েছেন সারও। অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে লাভজনক ফসল সূর্যমুখী শুধু দেখতে রূপময় নয়, গুণেও অনন্য। এটি একটি তেলজাতীয় ফসল।

কৃষক বাবর বলেন, আগে জানতাম, কেবল ফুল হিসেবে সূর্যমুখী লাগানো হতো। পরে কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জেনেছি, সূর্যমুখীবীজ থেকে তেল পাওয়া যায়, যা তুলনামূলক দামি। বীজ বিক্রি এবং প্রক্রিয়ার সুযোগ পেলে এলাকার কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে অনেক বেশি আগ্রহী হবেন। গাছ ও ফুল দেখে লাভের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাবর বলেন, অন্যান্য এলাকার কৃষকরা যদি সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয় ভোজ্যতেলের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে।

আগামী বছর আরও বেশি করে সূর্যমুখী চাষের চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে সারোয়াতলির খিতাপচর এলাকায় ২০ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন কৃষক শাহীন ও ধনা। ফুল আসতে শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লক্ষণ কুমার কারণ।

বোয়ালখালীতে সূর্যমুখীর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও সরকারি সহযোগিতায় এই ফসলের আবাদে কৃষকদের বেশ আগ্রহ বেড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শসহ নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গৌতম চৌধুরী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর ইসলাম বলেন, সূর্যমুখী একটি স্বল্প মেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সূর্যমুখী চাষ ঝুঁকিমুক্ত। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। রোপণের তিন মাসে এই ফসল ঘরে তোলা যায়। কষকেরা আগ্রহী হলে আগামীতে আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। বিদেশ থেকে ভোজ্য তেলের আমদানি কমাতে সরকার বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেছে কৃষকদের মধ্যে। আবাদ বাড়লে এর সুফল পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি