বাংলায় একটি বাস্তবসত্য একটি প্রবাদ আছে। পরিশ্রমই সৌভাগ্যের প্রসূতি, যা বর্ণে বর্ণে সত্য। আর এই পরিশ্রমই এনে দিলো ঘোড়াশাল পৌর এলাকার পাইকসার ধারারটেকে রাসেল মিয়ার সংসারে সুখ, হলো স্বাবলম্বী। শুধুই ঘোড়াশাল নয় পুরো পলাশ উপজেলায় রয়েছে রাসেলের সুগন্ধি পানের দোকানের পরিচিতি।
রাসেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় তার সফলতার অতীত। সে জানায় আগে ঘোড়াশাল বাংলাদেশ জুট মিলে কাজ করতাম। হঠাৎ মিলটি হয়ে যায় বন্ধ। হাতে নাই টাকা নাই কোন সাহায্যকারী। বাবা কৃষিকাজ করে, ঘরে ছোট ভাই বোন স্ত্রী সন্তান। মাথা গোঁজার নাই একটি ভালো ঘর। চোখেমুখে দেখি অন্ধকার, কি করব, কি কাজ করে সংসার চালাব।
অনেকের কাছে গিয়েছি কেউই একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি। হঠাৎ সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান ও সমাজসেবক নাজমুল হোসেন পরামর্শ দেয় ছোট্ট একটি পানের দোকান দিতে। তারা ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজারের সামনে একটি জায়গাও ঠিক করে দেয়। চার হাত বাই চার হাত একটি টং দোকান নিয়ে শুরু করি পান বিক্রি। বেচাকেনা আল্লাহর ইচ্ছায় ভালোই শুরু হয়। বাড়িতে নিতে পারি দুমুঠো চাল।
প্রায়ই তিন বছর একরকম সাধারণ পান বিক্রি করে কিছুই টাকা হাতে আসে। তখন ছোট ভাই কাসেমকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করি রকমারি হরেকরকম পান বেচা। বিক্রিও থাকতে বাড়তে। সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দুভাই পালাক্রমে দোকানে থাকি। দোকানটাও একটু বড় দেখে ভাড়া নেই। এখন দোকানে বিক্রি করি রকমারি পান। এর মধ্যে আছে মিষ্টিপান, শাহী পান, শাহাজাদি পান, বেনারসি পান, হরিণের কস্তুরি পান জামাই-বৌ পান সুবাস পান আরও কয়েক রকম। দাম ১০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা। এরমধ্যে দামি পানে দেওয়া হয় শতাধিক রকমের সুস্বাদু মসলা। সকাল থেকে রাত অবধি রাসেলের পানের দোকানে ভীড় লেগেই থাকে। কখনও দুভাই একসঙ্গে পান ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। বড় কথা হলো গত ১১ বছরে রাসেলের হাতে পান খেয়ে কেউই খারাপ বলেনি।
পানের পাশাপাশি পানের মসলা সিগারেট বিক্রিও করে সে। অনেক ক্রেতা একসঙ্গে ১৫-২০টা দামি পান কিনেও নিয়ে যায়। ইতোমধ্যে নিরলসভাবে পরিশ্রমের ফলে বাড়িতে একটি থাকার ঘরও করেছে। সে জানায় আল্লাহর রহমতে দোকানের খরচপাতি শেষে বাড়ির সবাইকে নিয়ে এখন খেয়েপড়ে ভালোই আছি। তবে পুজি (মূলধন) থাকলে দোকানটা বড় করতাম।
কৌতূহলবশত তার দোকানে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দেখা গেল। একজন ক্রেতা বললো, তাকে আগুইন্যা পান দিতে। দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। রাসেল একটি পান নিয়ে এর মধ্যে বিভিন্ন মসলা দিয়ে শেষে কি এক মসলা দিল, পানের মাঝখানে জ্বলে উঠলো কয়েক সেকেন্ডের জন্য আগুন। লোকটিও পানটি তৃপ্তিসহ মুখে দিয়ে চিবোতে লাগল। ফজলু, বাবুল, আনোয়ার, সন্তোষ নামে কয়েকজন ক্রেতা জানায়, রাসেলের হাতে জাদু আছে। তার হাতে বানানো ১০ টাকার পানেও একটা ভিন্ন স্বাদ আছে।
রাসেল জানায় আমরা চারভাই, দুইবোন, তার নিজের চার কত্যা, স্ত্রী ও বাবামা সংসারে। পরিশ্রম যদি না করি খাব কি? কোন কাজই ছোট না। দিনে-রাতে প্রায়ই ১৪ ঘণ্টা কাজ করি।
বেকারদের উদ্দ্যেশে রাসেল বলে, বসে না থেকে ছোট একটা ব্যবসা বা কাজ দিয়ে তারা জীবন শুরু করুক। সততা আর পরিশ্রমই তাদের সফলতা এনে দিবে। সহজ সরল পরিশ্রমী রাসেল এখন ঘোড়াশাল-পলাশের অনুকরণীয় নাম।
অর্থ-বাণিজ্য: সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়লো
অর্থ-বাণিজ্য: টানা দরপতনেও বাজার মূলধন বাড়লো হাজার কোটি টাকা