image

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের দোকান-বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর, আহত ৩

প্রতিনিধি, ফরিদপুর

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা, মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ। হামলার ঘটনায় শিশুসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও দোকান পরিদর্শন করেন তারা।

এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, বিএনপি মনোনীত ও ফরিদপুর-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সকল প্রকার সহিংসতা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানান। ঘটনা অনুসন্ধান করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

প্রশাসনকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান প্রফেসর আবদুত তাওয়াব।

পরিদর্শনকালে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাব, কোতোয়ালি থানা আমীর মো. জসীম উদ্দিন, ফরিদপুর পৌর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শামীমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবি নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন। গেরদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন মেম্বারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

এ সময় হামলাকারীরা কয়েকটি দোকানসহ সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন ও কর্মী সজিবের বাড়িতে ভাঙচুর করে। ভাঙচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়লে তার বাম কানে জখম হয়। হামলাকারীরা ধাওয়া করে আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে বাড়ির পাশের ফসলের ক্ষেতের মধ্যে ফেলে মারপিট করে। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। এছাড়া লাঠি দিয়ে আলমগীর হোসেনের মাথায় আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অবস্থায় আজিজুলকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলার সময় আক্রান্তরা ট্রিপল নাইন-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন গেরদা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন।

এদিকে ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন সংবাদ ডিজিটালকে বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গণ্ডগোলের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, ওই স্থানে একটি দোকানে চা পান করার সময় জুয়েল নামের একজনের ওপর জামায়াত কর্মীরা আক্রমণ করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। আহত জুয়েল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সংবাদ ডিজিটালকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি